সাবেক দুই সভাপতির বিরুদ্ধে সিঙ্গিয়া মাদ্রাসার জমি অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ড করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদরের বসুন্দিয়া মোড়স্থ সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার জমি জবরদখল চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে সাবেক দুই সভাপতি কওসার আলী ও নূর মোহাম্মদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। স্থানীয় দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তারা এ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। এছাড়া তারা মাদ্রাসাটির এমপিও বাতিলের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। তাদের এ অপতৎপরতার বিরোধিতা করায় মাদ্রাসাটির বর্তমান সভাপতি লাবুয়াল হক রিপনের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটানো হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি করেন সিঙ্গিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল হান্নান। সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার জন্য সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি প্রশাসনসহ স্থানীয় মুসল্লিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বসুন্দিয়া মৌজার ১৩৪৩ দাগে সাড়ে ১৩ শতক জমির উপর ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সিঙ্গিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা। চারজন দাতাসদস্য এ প্রতিষ্ঠানে ৪৪ শতক জমি দলিলের মাধ্যমে দান করেন। জমিদাতাদের অংশ হারে এসএ রেকর্ড অনুযায়ী সাড়ে ১৩ শতক জমি মাদ্রাসা বুঝে পায়। কিন্তু সর্বশেষ হাল রেকর্ডের সময় মাদ্রাসাটির তৎকালীন সভাপতি নূর মোহাম্মদ ও কাওসার আলী বিশ্বাস চক্রান্ত করে মাদ্রাসার জমি সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া এতিমখানা ও বসুন্দিয়া মোড় জামে মসজিদসহ দুইটি প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ড করেন। এসএ রেকর্ড অনুযায়ী সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া এতিমখানার আড়াই শতক এবং বসুন্দিয়া মোড় জামে মসজিদের জমি ৯ শতক। কিন্তু নূর মোহাম্মদ ও কাওসার আলী বিশ্বাস চক্রান্ত করে হাল রেকর্ডে মাদ্রাসার নামে থাকা সাড়ে ১৩ শতকের পরিবর্তে মাত্র ৭ শতক জমি রেখে বসুন্দিয়া মোড় জামে মসজিদ ১০ শতক ও সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া এতিমখানার নামে ১০ শতক জমি রেকর্ড করেন। এ হাল রেকর্ড অনুযায়ী তারা এখন মাদ্রাসার জমি দখল নিতে চান। এর বিরোধিতা করে জেলা প্রশাসনের পরামর্শে বর্তমান সভাপতি আদালতের দারস্থ হয়েছেন। এজন্য গত রোববার কওসার আলীর নেতৃত্বে কয়েক মামলাবাজ প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে মাদ্রাসাটির শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ওই দুই সভাপতির আমলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন। বর্তমানে ওই মাদ্রাসায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এজন্য শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে মাঠের পাশে নতুন একটি টিনশেড ঘর করা হয়েছে। এই ঘরটিকে ইস্যু করে কওসার আলী, রফিক বিশ্বাস, আলাল বিশ্বাস, জালাল বিশ্বাস ও নূর মোহাম্মদ বিশ্বাসসহ কয়েকজন বিভিন্নভাবে শিক্ষার পরিবেশে বিঘœ ঘটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে চক্রান্তের অংশ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করার প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসাথে মাদ্রাসার জমি রক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হান্নান। এসময় মাদ্রাসার সভাপতি লাবুয়াল হক রিপন, সহকারী সুপার শহিদুল ইসলাম, বানিয়ারগাতি মহিলা মডেল দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি রেজাউল ইসলাম, সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আবু তাহের, আব্দুল কুদ্দুস মল্লিক, আব্দুল হামিদসহ মাদ্রাসাটির সকল শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মাদ্রাসা নিয়ে চক্রান্তের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।

শেয়ার