বাঘারপাড়ায় জমি বিক্রি করে শিক্ষা কর্মকর্তার ঘুষের টাকা দিলেন শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের বাঘারপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে জমি বিক্রি করিয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত চার মাস আগে উপজেলার ইন্দ্রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ তেজারত পরিদর্শনে যেয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ১ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের জমি বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা ওই কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে বিভাগীয় মামলার ভয় দেখান।
অভিযোগকারী ইন্দ্রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ঘুষের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। আগামী ১ আগস্ট নির্বাহী অফিসার শুনানি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। বিভিন্ন অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, শিক্ষা কর্মকর্তা ১৬ সালের ১১ নভেম্বর বাঘারপাড়ায় যোগদানের পর ঘুষ ও অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। অফিস ফাঁকি, নিজ অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত, এনসিটিবির পুরাতন বই রাতের আধারে চুরি করে বিক্রি, মা সমাবেশের টাকা আত্মসাত, বিজ্ঞান মেলার টাকাও তিনি পকেটে পুরেছেন।
দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা শিক্ষকদের জিম্মি করে এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কাজে হাজার হাজার টাকা পকেটস্থ করারও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াদিপুর আলীম মাদ্রাসার এক জুনিয়র শিক্ষকের এমপিও ভুক্তির জন্য ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। মাহমুদপুর সিএসসি নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এনটিআরসি এর নিয়োগকৃত হিন্দু ধর্মের শিক্ষকের শাখা অনুমোদন না থাকলেও ঘুষের বিনিময়ে কয়েকবার এমপিওর জন্য জেলা অফিসে পাঠিয়েছেন।
২০১৭ সালে একাধিক পত্রিকায় দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় একাধিক তদন্ত হয়েছে কিন্তু দৃশ্য্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির কার্যক্রম ‘বিকেন্দ্রীকরণ’ এবং ‘অনলাইন’ করা হলেও তার সুফল মেলেনি বরং বাঘারপাড়ায় ফল হয়েছে উল্টো। এর প্রধান কারণ শিক্ষা কর্মকর্তার হয়রানি, ঘুষ, দুর্নীতি। শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও কার্যত: কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ শিক্ষকদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, এমপিও নির্দেশনা মোতাবেক সকল কাগজপত্র দিয়ে যথা নিয়মে আবেদন করেন। যাদের ঘুষের রেট বেশি থাকে তাদের কাগজপত্র সঠিক না থাকলেও জেলা অফিসে পাঠান এ মহাদুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। আবার যাদের আবেদন সঠিক থাকে ঘুষ কম থাকলে তা বাতিল হয়। যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, সঠিকভাবে কাগজপত্র স্ক্যান করা হয়নি। এভাবে প্রতিধাপেই হয়রানি হতে হচ্ছে শিক্ষকদের।
বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আনা এসব অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে রাতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শেয়ার