লন্ডন থেকে ফোনে নেতাদের নির্দেশ শেখ হাসিনার ডেঙ্গু সচেতনায় সাংগঠনিক প্রচারণায় আ.লীগ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ চোখের চিকিৎসাজনিত কারণে লন্ডনে থাকায় দলের সম্পাদকম-লীর সভায় মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে নেতাদের চলমান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকম-লীর সভায় প্রথমে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (রাজনৈতিক) সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম এবং পরে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র সারাবাংলাকে জানান, নেত্রী ডেঙ্গুর ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সাংগঠনিকভাবে জোরালো প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যাতে কোনো প্রকার অবহেলা না হয় সে ব্যাপারে হাসপাতাল মনিটরিংসহ আক্রান্তদের জন্য রক্ত সংগ্রহে সহায়তার পরামর্শ দেন। এলক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতকর্মীদের নিয়ে টিম গঠনের পরামর্শও দেন তিনি।
সূত্র আরও জানায়, দেশজুড়ে সচেতনতা ও সতর্কতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দলের পাশাপাশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে ম্যাসিভ কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও করণীয় নির্দেশে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে নিবিড় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এদিকে পদ্মা সেতুতে মানুষের রক্ত ও বাচ্চাদের মাথা লাগবে এই গুজব প্রতিরোধেও দেশজুড়ে জনসচেতন সৃষ্টির পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে কথা বলে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কুশল ও সালাম বিনিময় করেন শেখ হাসিনা। এসময় নেতারা চোখের অপারেশন পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রী তার চোখের অবস্থা এখন ভাল বলে জানান।
এব্যাপারে জানতে চাইলে দলের নেতারা বলেন, নেত্রী কাদের ভাইয়ের সাথে কথা বলেছেন। এরপর বৈঠকের শেষের দিকে নানক ভাইয়ের ফোনে কল দিয়েছেন। আমরা কেবল কুশল জানতে চেয়েছি।
এদিকে নেত্রীর নির্দেশে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিশেষ এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অন্তর্গত থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, মহানগরের অন্তর্গত দলীয় সংসদ সদস্য, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
সম্পাদকম-লীর বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সভার শুরুতেই আমরা যে মিটিংয়ে বসেছি লন্ডন থেকে নেত্রী তা লক্ষ্য করেছেন এবং ফোন করে প্রায় ২৫ মিনিট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ’
জাহাঙ্গীর কবির নানকের মোবাইল ফোনে পুনরায় কল দিলে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে লাইন কেটে যায়। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন যদি কানেক্ট করতে পারি, তাহলে তার বক্তব্য আপনারা যেন শুনতে পান সে ব্যবস্থা করা যাবে। ’
তার আগে ওবায়দুল কাদের নানকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে বলেন, ‘আপা এখানে সাংবাদিকরা আছে, আপনি চাইলে তাদের সামনে কিছু বলতে পারেন। এসময় মাইক্রোফোনের সামনে মোবাইল ফোনটি ধরলে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কলটি কেটে যায়।’
এরপর সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের ডেঙ্গু পরিস্থিতি, বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ এবং উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীপ্রার্থী ও বিরোধী নেতা, এমপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর নিয়ে কথা বলেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। যে চিকিৎসাটা তাঁর অত্যন্ত জরুরি। তার দুটো চোখেরই আসলে অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে। যেটা তিনি নিজেও ভাবেননি। চিকিৎসার ব্যাপারটা না হলে এই মুহূর্তে অন্তত তাঁর বিদেশ থাকার কথা নয়। তারপরও তিনি সেখান থেকে আমাদের মিটিংয়ে যোগ দিয়েছেন এবং কিভাবে কাজ করব সে পরামর্শ ও কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি আপনাদের যে প্রোগ্রামগুলোর কথা বললাম। তা নেত্রীর নির্দেশেই করতে যাচ্ছি। ’

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার