নওয়াপাড়ায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি, প্রশাসন নিরব

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মহামান্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়ায় যানবাহন থেকে ¬¬চলেছ প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার পাশে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরণের যানবাহন থেকে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রশাসনের নিরব ভুমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি মহামান্য আদালত মহাসড়কে সকল ধরণের চাঁদাবাজি বন্দের নির্দেশ দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি নওয়াপাড়ায়। একটি মটর শ্রমিক সংগঠনের নামে নওয়াপাড়া বেঙ্গল গেট রেলক্রসিয়ং এলাকায় প্রকাশ্যে যানবাহন প্রতি ৬০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। নওয়াপাড়া স্টেশন বাজার এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, নছিমন-করিমন ও আলম সাধু থেকে স্লিপের মাধ্যমে ৬০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। বগুড়া থেকে নওয়াপাড়ায় সার নিতে আসা ট্রাক চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জোরপুর্বক তার কাছ থেকে একটি স্লিপ দিয়ে ৬০ টাকা নিয়েছে দুই যুবক। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় হেনস্তার শিকারও হতে হয়েছে তাকে।
জনৈক মটর শ্রমিক নেতা জানান, খুলনা বিভাগীয় ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ড ভ্যান থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা নেয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ৪০ টাকা কি কারণে নেয়া হচ্ছে তা তিনি জানেন না।
পথচারী ও শিক্ষার্থীরা জানায়, বেঙ্গল গেট রেলক্রসিং এলাকায় চাঁদা আদায়কালে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে যাত্রী ও সাধারণ জনগণকে। প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদাবাজি চললেও পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক। তারা ক্ষোভের সাথে জানায়, নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার সন্নিকটে এভাবে প্রকাশ্যে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি চললেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। মনে হয় তারা এ চাঁদার একটি ভাগ নিয়ে থাকেন।
অপর একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন মহাসড়ক থেকে আদায় করা টাকা স্থানীয় মটর শ্রমিক ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়।
এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ জানায়, সন্ত্রাসীদের অবৈধ অর্থের উৎস বন্ধ করতে না পারলে সন্ত্রাসীদের তান্ডব ও অপতৎপরতা চলতেই থাকবে। অবিলম্বে এসব চাঁদাবাজী বন্ধ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্ াগ্রহনের দাবী জানানো হয়।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা ট্রাক-ট্যাংলরী ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার্স ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শেয়ার