২৫ জুলাই খুলনা বিএনপির মহাসমাবেশ
শক্তি জানান দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যশোর বিএনপির দুই পক্ষ

দেবু মল্লিক
আগামী ২৫ জুলাই খুলনায় অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ। এই সমাবেশ সফল করতে জেলায় জেলায় চলছে প্রস্তুতি। যশোরে এই প্রস্তুতির আড়ালে বিবদমান দুই পক্ষ নিজেদের শক্তি জানান দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এজন্য দুইপক্ষই উপজেলা পর্যায়ে তাদের নেতাকর্মীদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছে।
তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেছেন, আগামী বিভাগীয় সমাবেশে যশোর থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বোচ্চ নেতাকর্মী নিয়ে আমরা অংশ নেবো। এজন্য একটি প্রস্তুতিসভাও আমরা করেছি। প্রতি উপজেলায় নেতাদের প্রস্তুতিসভাও করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।
আর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলছেন, জেলার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৃষ্ট ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এখন কেটে গেছে। আমরা যৌথভাবে প্রস্তুতিসভা করেছি। ঐক্যবদ্ধভাবেই খুলনায় গিয়ে আমরা সমাবেশ সফল করবো।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যশোর বিএনপির রাজনীতির দুইটি পক্ষ সম্প্রতি আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জাড়িয়ে পড়ে। যার অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে সভা আহ্বান করেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম। একইদিন শহরের ১নং আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সভা আহ্বান করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। এই দুই সভা নিয়ে যশোরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে সাবু পক্ষীয়দের সভাটি স্থগিত আর নার্গিস বেগমের ডাকা সভাটি মূলতবি করা হয়।
সাবু পক্ষীয় একাধিক নেতার দাবি, সিনিয়র নেতাদের উদ্যোগের পরও নার্গিস বেগম তথা অমিত পক্ষীয়রা তাদের সভা স্থগিত করেননি। এর মধ্য দিয়ে তারা দলের সিনিয়র ও নিবেদিত নেতাদের অপমান করেছেন। এর জবাব তারা রাজনৈতিকভাবেই দেবেন। এজন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জানা যায়, শুরু থেকে তরিকুল ইসলাম বিএনপির রাজনীতিতে বেশ শক্তিশালী। তার অবর্তমানে ছেলে খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেই হাল ধরেছেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে তরিকুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস ইসলাম আহবায়ক হিসেবে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে আছেন। আর তাদের প্রধান ‘সিপাহসালা’ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম-আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এদের বিরুদ্ধে একটি শক্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে হাজির হয়েছেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। তার সহযোগী হিসেবে বরাবরের মতো আছেন নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ ও বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব।
দলীয় সূত্র বলছে, তরিকুল ইসলাম পরিবারের পক্ষে অভয়নগর, শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছার শীর্ষ নেতারা আছেন। আগামী ২৫ জুলাইয়ের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে যাদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক যশোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর হাজী আনিচুর রহমান মুকুলসহ কয়েকজন।
আর সাবু পক্ষীয়দের শক্ত অবস্থান আছে বাঘারপাড়া, বেনাপোল, মণিরামপুর, কেশবপুর ও যশোর পৌর বিএনপির মধ্যে। এছাড়া এই পক্ষে রয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করা যশোর-১ আসনের মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর-৪ আসনের ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব ও যশোর-৬ আসনের আবুল কালাম আজাদ। আছেন ঝিকরগাছার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেরা নাজনীন মুন্নি, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র শহীদ ইকবাল হোসেন। যারা আগামী মহাসমাবেশে নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজেদের শক্তি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন কাজ করছেন।

শেয়ার