বাঁশি বাজিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 রেলকে আধুনিক ও গতিশীল করে যোগাযোগ উন্নত করা হবে : শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বেনাপোল প্রতিনিধি ॥ রাজধানী ঢাকা ও দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোলের মধ্যে বিরতিহীন ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেসের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় বেনাপোল প্রান্তে যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সামসুজামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে রেল যোগাযোগের গুরুত্ব উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ ঘনবসতিপূর্ণ। রেল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিএনপি সরকার আমলে রেল বিভাগ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল এবং করেও দিয়েছিল। তবে আমরা সরকারে আসার পর রেলের মাধ্যমে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছি। রেলকে আধুনিক করা, গতিশীল করা এবং যোগাযোগটাকে আরো মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের জন্য পুরনো রেলসেতু সংস্কার ও রেলপথগুলোর আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক রেল ইঞ্জিন চালনায় দক্ষ জনবল তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু কোচ বা ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ কেনা নয়, সাথে সাথে চলার পথগুলো বা রেললাইনগুলোও উন্নত মানের করে দেওয়া।
এসময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সামসুজামান বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে ২০২৩ সাল নাগাদ অনেক পরিবর্তন হবে। যশোর বেনাপোল রেললাইন ও স্টেশন আধুনিক করা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এসময় ঢাকা প্রান্তে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ, রেলসচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দুপুর ১টায় বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে বেনাপোল এক্সপ্রেস’। এসময় প্লাটফরমে থাকা উৎসুক জনতা হাত নেড়ে শুভকামনা জানান। ট্রেনটিকে স্বাগত জানাতে যশোর স্টেশনে আগে থেকেই অবস্থান নেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতারা। মাস্টার নূর জালালের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসময় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার নামে স্লোগান দেন। পৌনে দুইটার দিকে ট্রেনটি যশোর স্টেশনে পৌঁছায়। এসময় উপস্থিত যশোরবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সামসুজামান ও যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক মাস্টার নূর জালাল।
বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটির উদ্বোধনী যাত্রায় সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১০৪ টি টিকিট বিক্রি হয় বলে জানিয়েছিলেন বেনাপোল রেলস্ট্রেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান। ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ট্রেনটির চালক ছিলেন বেনজির আহম্মদ।
বেনাপোল এক্সপ্রেসে রয়েছে ১২টি কোচ, যার মধ্যে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। প্রচলিত সুইং ডোরের পরিবর্তে এসব কোচে রয়েছে নিরাপদ স্লাইডিং ডোর। দেশের প্রথম প্রতিবন্ধী বান্ধব এই ট্রেনে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ জানান, ৮৯৬ আসনের এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয়দিন বেনাপোল স্টেশন থেকে ছেড়ে যশোর, ঈশ্বরদী জংশন ও ঢাকা বিমানবন্দরে সামান্য বিরতি দিয়ে শেষ গন্তব্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে থামবে। এ ট্রেনের শোভন চেয়ার ৫৩৪ টাকা, এসি চেয়ার ১০১৩ টাকা, এসি প্রথম শ্রেণি ১২১৩ টাকা এবং এসি বার্থ টিকেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৬৯ টাকা। নতুন এই ট্রেনে বেনাপোল থেকে ঢাকা সময় লাগবে আট ঘণ্টা। বেনাপোল থেকে দুপুর ১টায় ট্রেনটি ছাড়বে, ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৯টায়।
আবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোল পৌঁছাবে।

শেয়ার