প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন শিক্ষাঙ্গনে ঘরে বসেই মেলে ফলাফল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই আগের সেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস

জাহিদ হাসান
তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই মিলছে দেশ-বিদেশের তথ্য-উপাত্ত। ফলে ঘরে কিংবা অফিসে বসেই এখন মিটে যাচ্ছে অনেক কাজ। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এমন আমূল পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে শিক্ষাঅঙ্গনেও। আগে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্নভাবে অবস্থান করতে দেখা গেলেও এখন সেই দৃশ্য নেই। চোখে পড়ে না ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর নোটিশ বোর্ডে হুঁমড়ি খাওয়ার চিত্র। শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে বসেই পেয়ে যাচ্ছে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল। স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার আগের সেই বর্ণিল মুহূর্ত খুব বেশি চোখে পড়ছে না।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তথ্যসংগ্রহ করতে গতকাল যশোর সরকারি এম এম কলেজে যাওয়া হয়। দুপুর ১২ টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় হাতেগোণা দশ থেকে বারো জন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এসেছেন। তখন ইন্টারনেটে ফল প্রকাশিত হয়েছে। সময় গড়িয়ে দুপুর ২টার দিকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০-৮০ জনের বেশি নয়।
কলেজের জিপিএ- ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী তামান্না চৌধুরী বলেন, ৬-৭ বছর আগেও দেখেছি আমাদের আপুদের রেজাল্ট দেয়ার দিন স্কুলে এসে অনেক আনন্দ করতে। অভিভাবক আর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কলেজে মিলনমেলা হতো। এখন ঘরে বসেই ফলাফল জানা যায়। তিনি বলেন, বাসায় রেজাল্ট জানার পরও কলেজে এসেছি বান্ধবীদের সাথে দেখা করার জন্য। কিন্তু অনেককেই দেখতে পাচ্ছি না।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সজল, তামান্না, সাকিব জানান, আমরা সবাই বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফলাফল জেনে এসেছি। তবুও বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে দেখা করার জন্যই কলেজে এসেছি। সবাই আসলে আরো বেশি ভালো লাগতো।
অভিভাবক সালমা আক্তার জানান, আমাদের সন্তানদের কলেজে আমার সুবাদে অনেক অভিভাবকদের মাঝেও একটি বন্ধন তৈরি হয়। ফলাফল ঘোষনার দিনে সবাই আসলে আরো ভালো লাগতো।
যশোর সরকারি এম এম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া বলেন, আজ থেকে ৬-৭ বছর আগেও ফলাফল ঘোষনার দিন স্কুল ক্যাম্পাস অন্যরকম এক উৎসবে মেতে উঠতো। নিজেদেরও খুব ভালো লাগতো তাদের সেই আনন্দের সাথে শামিল হয়ে। প্রযুক্তির কারণে এখন নিজ নিজ অবস্থান থেকে ফলাফল জানতে পারছে। তাই ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার দিনে হয়তোবা আগের মতো উপস্থিতি হয় না।
এ বিষয়ে আলাপচারিতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুন্দ্র বলেন, ইন্টারনেট প্রযুক্তি শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয় অনেক কাজেই আধুনিকতা এনেছে। আগে পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট দিতে অনেক দেরি হতো। এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল স্কুল- কলেজে দ্রুত রেজাল্ট দিতে পারি।