বিরতিহীন ট্রেন ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ যাত্রা শুরু আজ ॥ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সালমান হাসান রাজিব
ঢাকা-বেনাপোল রুটে আজ বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছে বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’। বেলা একটা পনের মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে বেনাপোল ছেড়ে আসবে। এজন্য গতকাল থেকে ট্রেনটিতে চলাচলের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এদিকে আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন চালু হওয়া এই ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন হবে। বেলা সাড়ে এগারটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এই ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন।
যশোর জংশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, ২৭ জুলাই থেকে ট্রেনটির যাত্রী চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত থাকলেও সেটি পরে পরিবর্তন হয়েছে। আজ থেকেই ট্রেনটি যাত্রী চলাচল শুরু করছে।
তিনি জানান, চলাচলের সময় অপারেশনাল স্টেশন হিসেবে যশোর জংশনে যাত্রাবিরতি করবে ট্রেনটি। এসময় যশোর জংশনের জন্য সংরক্ষিত ৭২টি সিটের যাত্রীরা এখান থেকে ট্রেনে উঠবেন। সংরক্ষিত এই ৭২ আসনের মধ্যে ১০টি এসি চেয়ার ও ৬২ টি শোভন চেয়ার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল থেকে যাত্রার শুরুর পর বেলা একটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে ট্রেনটি যশোর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। যশোর জংশনে যাত্রা বিরতির সময় নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সাথে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এক মতবিনিময়ে বসবেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান। যশোর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মতবিনিময়ের পর দুপুর দুইটা সাত মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যশোর ছাড়বে ট্রেনটি। এরপর ট্রেনটির আরেকটি অপারেশনাল স্টেশন ঈশ্বরদী জংশনে যাত্রা বিরতি করবে। এখান থেকে যাত্রী ওঠানামা করবে। এরপর ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য সাময়িক বিরতি দিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের শেষ গন্তব্যে গিয়ে থামবে।
জানা যায়, ট্রেনটিতে বগির সংখ্যা ১২টি। সপ্তাহে ছয়দিন বেনাপাল ঢাকা রুটে এটি চলাচল করবে। যাত্রার দিন ট্রেনটি বেলা সাড়ে এগারটায় বেনপোল ছাড়বে। আবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে আসবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানায়, ৮৯৬ আসনের এই ট্রেনটি নন এসি শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪৮৫ টাকা, এসি চেয়ার ৯৩২ টাকা, এসি কেবিন ১৬৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাড়ার সাথে যাত্রীদের আর ধরনের কোনো চার্জ দিতে হবে না। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন ইতিমধ্যে চালানো হয়েছে। গতকাল দিনভর ট্রেনটিতে সাজসজ্জা চলে। জানা গেছে, বর্তমানে যশোর থেকে ঢাকার মধ্যে যে ট্রেন সার্ভিস চালু রয়েছে তা ঢাকায় পৌঁছতে ১৪টি স্থানে বিরতি নেয়। এতে যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। নতুন চালু হওয়া বিরতিহীন ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস সাড়ে ৭ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছবে। ট্রেনটি বেনাপোল ছেড়ে অপারেশনাল স্টেশন যশোর জংশনে পৌঁছে বিরতি করবে ১৫ মিনিটের। এ সময়ের মধ্যে রেলের ইঞ্জিন ঢাকার পথে ঘোরানো হবে। এরপর ঈশ্বরদী গিয়ে ট্রেন চালকসহ অপারেশনাল কর্মী বদলের জন্য আরও ১৫ মিনিটের বিরতি করবে। পরে ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে শেষ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তবে এর আগে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে অল্প কিছুক্ষণের জন্য থামবে ট্রেনটি।

শেয়ার