বাগেরহাটে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের পর খুন ।। ৮দিন পার হলেও মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

বাগেরহাট প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় বহুল আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী হিরা আক্তারকে (১১) ধর্ষণের পর হত্যার ৮দিন পার হলেও মুল আসামি ফারুক শেখকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের দাবি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
এদিকে হিরা আক্তারের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দফায় দফায় মানববন্ধন করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এইচ আইডিএফ এর বাগেরহাট জেলার একটি প্রতিনিধি দল মোরেলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বহর বুনিয়া গ্রামে তথ্যানুসন্ধানের জন্য পরিদর্শন করেছে। অপরদিকে ছাপড়াখালী গাজীরঘাট দাখিল মাদ্রাসার পক্ষ থেকে হিরা হত্যার বিচারের দাবিতে গত ৮ জুলাই মানববন্ধন করার ঘোষণা দিলেও অজ্ঞাত এক হুমকির কারণে মানববন্ধন করা সম্ভব হয়নি।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা সার্কেল) রিয়াজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দুর্বৃত্তরা মাদ্রাসা ছাত্রী হিরা আক্তারকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তাকে নগ্ন করে ঝুলিয়ে রেখেছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের সব আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কারা কি কারণে মেয়েটিকে হত্যা করল তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
হিরা হত্যা ঘটনার দুই দিন পর গত ৪ জুলাই খুলনা রেঞ্জের পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ড. খ: মহিদ উদ্দিন, বিপিএম(বার) বৃহস্পতিবার বিকালে পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের গাউছ শেখের বাড়িতে যান। এ সময় ডিআইজি বলেন, ‘হিরার খুনিদের গ্রেফতার ও খুনের কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তদন্তে সকল ধরণের প্রযুক্তি দিয়ে তদন্তকারি দলকে সহায়তা করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এই হত্যাকান্ডের কিনারা পাওয়া যাবে’।
উল্লেখ্য গত ২ জুলাই মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহর বুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বহর বুনিয়া গ্রামের গাউস শেখের ছোট কন্যা হিরা আক্তার (১১) নামে এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বিবস্ত্র করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। হিরা আক্তার স্থানীয় ছাপড়াখালী গাজীরঘাট দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা গাউস শেখ বলেন, আমার স্ত্রী পারিবারিক কাজে বাগেরহাট শহরে যান। এসময় আমি ও আমার মেয়ে হিরা আক্তার বাড়িতে ছিলাম। মঙ্গলবার বিকেলে আমি মেয়ে হিরাকে বাড়িতে একা রেখে কেনাকাটা করতে বাড়ির বাইরে যাই। সেখান থেকে ফিরে এসে দেখি আমার মেয়েকে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘরের আড়ার সাথে গামছা দিয়ে ঝুলানো। আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখে দুবৃর্ত্তরা।

শেয়ার