ট্রাম্প-বিতর্কে জড়িয়ে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ডেরকের পদত্যাগ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত কিম ডেরক পদত্যাগ করেছেন। ইমেইল ফাঁস নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ‘নিজের মত করে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে পাঠানো ইমেইল ফাঁস এবং তা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কের মুখে বুধবার ডেরক পদত্যাগ করলেন। তার পদত্যাগে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে।
পদত্যাগপত্রে ডেরক বলেছেন, “ওয়াশিংটনের দূতাবাস থেকে সরকারি নথিপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আমার পদ ঘিরে এবং রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার বাকি মেয়াদ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
“আমি এ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে চাই। বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে আমি যেভাবে আমার দায়িত্ব পালন করতে চাই সেটা আমার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি লন্ডনে পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো ইমেইলে ডেরক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রাশাসনকে ‘অকর্মা’ ‘অযোগ্য’ এবং ‘তালগোল পাকানো’ বলেছিলেন।
গত রোববার ডেইলি মেইল পত্রিকায় ডেরকের ওই ইমেইলগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর ‘বিশেষ বন্ধুত্ব’ থাকা দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
ব্রিটিশ ডেইল মেইল পত্রিকা খবর অনুযায়ী, ডেরক তার ইমেইল বার্তায় বলেছেন, “এই (ট্রাম্প) প্রশাসন যে আরও স্বাভাবিক হবে, আরো কার্যকর হবে, প্রত্যাশামাফিক কাজ করবে, কূটনৈতিকভাবে আরো বিচক্ষণ হবে বা আরো করিৎকর্মা হয়ে উঠবে তা বিশ্বাস করতে পারছি না আমরা।”
হোয়াইট হাউজ ‘কখনো যোগ্য হয়ে উঠবে’ কিনা সে প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। জুনের যুক্তরাজ্য সফরে ট্রাম্পের ‘ঝলকানি’ দেখা গেলেও মার্কিন প্রশাসন আগের মতোই আত্মকেন্দ্রিক থাকবে বলেই ধারণা ডেরকের। “এটা এখনো ‘আমেরিকা সর্বাগ্রে’র দেশ,” বলেছেন তিনি।
ডেরককে পাল্টা জবাব দিতে মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে এক টুইটে ট্রাম্প তাকে ‘খুবই নির্বোধ ব্যক্তি’ বলেন। ট্রাম্পের টুইট, “যুক্তরাজ্য যে খ্যাপাটে রাষ্ট্রদূতকে যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দিয়েছে তিনি আসলে ওই ব্যক্তি নন যার প্রতি আমরা আগ্রহী, একজন খুবই নির্বোধ ব্যক্তি।”
ডেরক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক বিভাগের প্রধান সিমন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, কিম ডেরক ‘অত্যন্ত সম্মান, পেশাদারিত্ব এবং মর্যাদার সঙ্গে তার দীর্ঘ এবং বিশিষ্ট পেশাজীবনে সেবা দিয়ে গেছেন’।
ডেরকের ইমেইল ফাঁস কা-কে তিনি ‘প্রতিহিংসা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আপনি (ডেরক) আমাদের সবার সেরা।”
ডেরকের পদত্যাগ নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মেও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “আপনি (ডেরক) পদত্যাগ করার প্রয়োজন বোধ করেছেন, এটি নিদারুণ দুঃখের বিষয়।”
“কিম ডেরক আজীবন যুক্তরাজ্যের সেবা করেছেন এবং আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।” কর্মকর্তাদের ‘পূর্ণ এবং খোলাখুলি পরামর্শ’ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন মে।

শেয়ার