খড়কির ত্রাস অনু-শিমুল প্রকাশ্যে
আতঙ্কে এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অনু-শিমুল দুই সহোদর সন্ত্রাসীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ যশোর শহরের খড়কিবাসী। এ দুই সহোদরের বিরুদ্ধে বোমা বিস্ফোরণ, খুন, নাশকতা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদক সন্ত্রাসীর অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকের নামে অন্তত ডজন খানেক করে মামলা রয়েছে। বর্তমানে তারা এলাকায় নানা অপরাধ অপকর্মে সক্রিয় রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, শহরের খড়কি বর্মনপাড়া গাজীবাড়ির মঞ্জু খানের দুই ছেলে অনু ও শিমুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এলাকায় কেউ জমি ক্রয় বা বাড়ি নির্মাণ করলে তাদেরকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। আর চাঁদার টাকা না দিলে খুন করাসহ নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। উক্ত এলাকায় তারা রেলওয়ের ৮ বিঘা জমি জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণ করে আছে। সেই বাড়িতে আছে একাধিক ভাড়াটিয়া। কিন্তু ভাড়ার টাকা দিতে কারো দেরী হলে মাথার চুল পর্যন্ত কেটে দেয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ে এয়ারকন্ডিশন চালানোর অপরাধে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অনু ও শিমুল দুই সহোদর বর্তমানে এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিমুল বিএনপি সরকারের আমলে একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। সেসময় কাঞ্চন নামে একজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে তার একটি পা পঙ্গু করে দেয়। পরবর্তী সরকারের আমলে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়। সেকারণে তাকে হাতকাটা শিমুল বলে এলাকার লোকজন চিনে। এ দুই সহোদরের বিরুদ্ধে বোমা বিস্ফোরণ, খুন খারাবি, নাশকতা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে।
অনু-শিমুলের সাথে এলাকার টুটুল, টিটন ও ইমনসহ আরো কয়েকজন সন্ত্রাসী নানা অপকর্মে অংশ নেয়। টুটুল গত বছর পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে খুন হয়। আর অন্য দুইজন এখন ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
সূত্রে জানা গেছে, অনুর স্ত্রী সুমি খাতুন এবং শিমুলের স্ত্রী পপি খাতুন তারা দুইজনই স্বামীর সাথে মাদক কারবারে ব্যস্ত থাকে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনুর বোন ইয়াছমিনের ঘরে প্রতিদিন মাদকের কারবার বসে। আর এ কারবারে প্রশাসনসহ স্থানীয়দের বাইরে থেকে পাহারা দেন ইয়াছমিনের স্বামী মাহমুদ। ওই ঘরে একই এলাকার বিপুল, পিপুল, হিরা, সিপন, রিপন ও ধর্মতলার রনিসহ অনেকে আসে। তারা ইয়াবা ক্রয় করে নিয়ে যায়, আবার সেবনও করে।
এছাড়া অনুর আরেক বোন নাসরিন খাতুন টুল্লির সাতটি বিয়ে হলেও কোনো স্বামীর ঘর করতে পারেনি। বর্তমানে ভাই ও ভাবিদের সাথে থেকে মাদক কারবারিসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা ওই পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন তাদের সেল্টার দিয়ে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এলাকাবাসী ওই পরিবারের মাদকসহ নানা অপরাধ থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার