যশোরে তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা শুরু জাতিকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে: ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রগতির মূল শক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা। ৪০ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে এ মেলা শুরু হয়। রোববার সকালে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে এ মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। ১৮ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার যুগ। দেশের চলমান আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের অভিযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে চাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ এবং টেকসই প্রয়োগ, চাই জাতিকে বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলা এবং বেশি বেশি বিজ্ঞান চর্চা।
তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতে আমাদের ঈর্ষণীয় অগ্রগতি হলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যান্য বিভাগে আমাদের অর্জন প্রত্যাশিত মাত্রায় নয়। তাই বিজ্ঞানের অর্জনকে টেকসই করতে হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞান চর্চার আগ্রহ বাড়াতে হবে।
৪০ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন কমিটির যশোরের সম্পাদক অনিন্দিতা রায় জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাবান উদ্ভাবকদের চিহ্নিত করে তাদের উৎসাহ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ মেলায় হাইস্কুল ও সমমানের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্কুল ভিত্তিক বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যবৃন্দ জুনিয়র গ্রুপে তাদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করছে। কলেজ ও সমমানের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কলেজ ভিত্তিক বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যবৃন্দ সিনিয়র গ্রুপে তাদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বিজ্ঞান ক্লাব ব্যতীত অন্যান্য বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যবৃন্দ, তরুণ ও অপেশাদার বিজ্ঞানীগণ, উদ্ভাবকগণ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীগণ বিশেষ গ্রুপে তাদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও ৪০ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদযাপন কমিটির যশোরের সম্পাদক অনিন্দিতা রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা, জেলা শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম টুকু, জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক একে এম গোলাম আযম।
উপস্থাপন করা প্রজেক্টের মধ্যে ছিল সূর্যের আলো ও বিকল্প জ্বালানী ব্যবহার করে চালিত জাহাজ, সায়েন্স সিটি, ভূমিকম্প শনাক্ত করণ যন্ত্র, স্বল্প ব্যয়ে পানি পরিশোধন, ইভটিজিং প্রতিরোধক সুস্মোক রিসাইক্লিয়ার, সিকিউরিটি বক্স, লো-কস্ট ইনকিউবেটর, ড্রোন, সৌরপাম্প, কৃষিক্ষেত্রে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার প্রমুখ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল স্টল পরিদর্শন করে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন প্রজেক্ট দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শেয়ার