যশোরে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আটক!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে প্রতি ইজিবাইক থেকে ট্রাফিক পুলিশ ২০ টাকা চাঁদাবাজি করছে। এর প্রতিবাদ করায় রোববার শহরের সিভিল কোর্ট মোড়ে রাব্বি ইসলাম নামে এক প্রতিবাদীকে আটক করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয় তাকে বেদম মারপিট করা হয়েছে। রাব্বি ইসলাম শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার আলমগীর হোসেন ফরিদের ছেলে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর শহরের সিভিল কোর্ট মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল (৪০৩) নূরুল ইসলাম। ওই মোড় থেকে দড়াটানা পর্যন্ত ইজিবাইক, অটো ভ্যান ও রিক্সা চলাচলে বাধা দেন নূরুল ইসলাম। কিন্তু ওই যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে ১০ ও ২০ টাকা নিয়ে চলাচল করার সুযোগ দেন। এরই মধ্যে আলামিন হোসেন নামে এক ইজিবাইক চালক ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল নূরুল ইসলামকে ২০ টাকা দিলেই তাকে ওই রাস্তায় যেতে দেয়া হয়। এসময় পথচারী রাব্বি ইসলাম টাকা নিয়ে ইজিবাইক যেতে দেয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু এতে রেগে যান পুলিশ কনস্টেবল নূরুল ইসলাম। এক পর্যায় পুলিশিং ক্ষমতা খাটিয়ে তাকে মারপিট করে আটক করা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় থানাতে। সেখানেও তাকে মারপিট করা হয়। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের ২০ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় রাব্বিকে আটক না করতে তার মা ওই পুলিশের পা ধরে কান্নাকাটি করলেও কাজ হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই নূরুল ইসলামের মত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলদের ঘুষ নিতে দেখে। কিন্তু নিরবে সহ্য করতে হয় সাধারণ ওই মানুষদের।
উল্লেখ্য, যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় যানজট নিরসনের কথা বলে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সিভিল কোর্ট, মশিউর রহমান সড়কের বকুলতলা, সদর হাসপাতালের সামনে এবং চিত্রা মোড় থেকে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, অটো ভ্যান ও রিক্সাসহ নানা ধরনের ছোট যানবাহন চলতে দেয়া হয় না। অথচ নির্ধারিত পরিমানে ঘুষের টাকা পেলে ওই যানবাহন চলাচলে কোন বাধা নেই। ফলে যশোরের ট্রাফিক পুলিশ এভাবে নিরবে প্রতিদিন হাজার টাকা ওই যানবাহন থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিটের পর আটক হয়।
কিন্তু নির্ধারিত পরিমাণে ঘুষ দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন ওই রাস্তায় চলাচল করতে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। আর যারা ঘুষ দেয় না; তাদের ধরে মারপিটের পর মামলা দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, শহরের গাড়িখানা রোডে ট্রাফিক পুলিশই ওই সকল যানবাহনের স্টাটারি করে থাকে। প্রতিদিন গাড়িখানা থেকে শত শত যানবাহন মশিউর রহমান সড়ক হয়ে পালবাড়ি, খয়েরতলা ও চুড়ামনকাটি যায়। আর সেই যানবাহন থেকে পুলিশ স্টাটারি করে আদায় করে হাজার হাজার টাকা।

শেয়ার