বাজেটের অজুহাতে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি যশোরে প্রতিদিন কোটি টাকা ঠকছেন ভোক্তারা

দেবু মল্লিক
আগামী বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে এমন খবরেই যশোরের বাজারে সিগারেটের দাম বেড়ে গেছেন। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।
জানা যায়, যশোরের বাজারে ১২টাকার বেনসন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। আট টাকার গোল্ডলিফের দাম রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। এছাড়া চার টাকার ডারবি পাঁচ টাকায়, পাঁচ টাকার স্টার ও স্টার লাইট বিক্রি হচ্ছে ছয় টাকা দরে। অর্থাৎ সরকার নতুন করে তামাকজাত পণ্যের উপর শুল্ক না আরোপ করলেও যশোরের বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সিগারেট কোম্পানির গাড়িতে করে দোকানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও বাজেটের আগে প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্যই সরবরাহ করা হচ্ছে। এজন্য তাদের বাইরের দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে সিগারেট কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা দাম বেশি নিচ্ছেন।
এইচডিআরসি ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ‘তামাক শিল্প এবং কর’ নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ৪২ শতাংশেরও বেশি ধূমপায়ী। সম্প্রতি জাপান টোব্যাকো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে এক কোটি ৮০ লাখ ধূমপায়ীর বছরে আট হাজার ৬০০ কোটি সিগারেট শলাকা দরকার হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে একজন ধূমপায়ীর ১৩টি সিগারেট দরকার পড়ে।
যশোর পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্র বলছে, জেলায় বর্তমানে জনসংখ্যা ২৯ লাখ ৬২ হাজার ৫২৯ জন। যাদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৯ হাজার ৬৮৭ জন। এই পুরুষদের ৪২ শতাংশ অর্থাৎ ছয় লাখ ৩৪ হাজার ৬৯ জন ধূমপায়ী। যাদের মধ্যে সিগারেট খান ২৭ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে তারা ১৩ সিগারেট খেলে যশোরে প্রতিদিন সিগারেটের চাহিদা ৫২ লাখ ৯৯ হাজার একটি। এই সিগারেটের প্রতিটিতে গড়ে দুই টাকা হারে বেশি নেওয়া হচ্ছে। সেই হিসেবে কোম্পানিগুলো শুধু যশোরের ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন এক কোটি পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার দুই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা ভোক্তার পকেট থেকে হাতিয়ে নিলেও এই কোম্পানির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এব্যাপারে যশোর ব্রিটিশ এ- টোব্যাকো কোম্পানির ডিস্টিবিউটার আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

SHARE