চৌগাছায় লবিং-গ্রুপিং প্রতিপক্ষের হামলায় ৫ নেতাকর্মী আহত ॥ এলাকায় উত্তেজনা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলায় কমপক্ষে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার বেগোবিন্দপুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের উভয় গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে উপজেলা বেড়গোবিন্দপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের এক গ্রুপের হামলায় অপর গ্রুপেরর পাঁচ নেতাকর্মী মারাত্মক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতরা হলেন, বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের আমিনুর বিশ্বাসের ছেলে হারুন অর রশিদ (৪৭), আনিছুর বিশ্বাসের ছেলে আজাদুর রহমান আজাদ (২৮), রহমত বিশ্বাসের ছেলে হাফিজুর রহমান পেন্টু (৫২), রোকন আলী বিশ্বাসের ছেলে আমিনুর রহমান (১৬) ও মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে ওয়াজ উদ্দিন বিশ্বাস (৫০)।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরাইয়া পারভীন বলেন, আহতদের মাথা, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তাদের চিকিৎসা সেবা চলছে। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে আহতদের মধ্যে আজাদুর রহমান আজাদ ও আমিনুর রহমানকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই বেড় গোবিন্দপুর গ্রামে সরকারি দলের দুই গ্রুপই মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সেখানে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারের হামলার ঘটনাও নির্বাচন কেন্দ্র করে বলে তিনি জানান। হামলায় যারা আহত হয়েছেন তারা সকলেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান গ্রুপের। আর যারা হামলায় অংশ নেয় তারা সকলেই বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. এম মোস্তানিছুর রহামন গ্রুপের লোকজন বলে পরিচিত।
আহতের স্বজনরা জানান, রবিবার সকালে মাঠে যাওয়ার পথে গ্রামের শহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে রাস্তায় পৌঁছালে সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একই গ্রামের খাতের ওরফে আজিবার, তার ছেলে তৈনুর রহমান, তোতা ও তার ছেলে আলম হোসেন, মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও তার ছেলে শরিফুল ইসলাম, আবিদুর রহমান, রকি, কাঠ মুন্তাজ ও তার ছেলে তরিকুল ইসলাম, ওহাবের ছেলে শাহিনুর রহমান, শাহাজানের ছেলে হাসিবুল ইসলামসহ ১৫/২০ জন তাদের গতীরোধ করে। এ সময় কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই হামলাকারীরা লোহার রড, দেশী অস্ত্র, বাঁশ লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়। এ সময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ রিফাত খান রাজিব বলেন, হামলার ঘটনা জানার পরপরই সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে উভয়কে শান্ত করেন। ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারা দোষি না হলে ছেড়ে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

SHARE