যশোরের ১ হাজার ৭৬৯ ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে যশোরের আট উপজেলায় ১ হাজার ৭৬৯ ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল পৌনে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে এসব ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদকে ঘিরে এবারও সাজানো হয়েছিল ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকা। তবে ব্যতিক্রমভাবে সাজানো হয়েছিল যশোর শহরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। নির্বিঘেœ ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে পুরো মাঠ ত্রিপল ও সামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা।
এখানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। যেখানে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ও পৌরমেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিসহ ১০ থেকে ১২ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। আর শহরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। এদিকে নামাজ শেষে কোলাকুলি, কুশল বিনিময় শুরু হয়। ঘরে ঘরে চলে মিষ্টিমুখ, অতিথি আপ্যায়ন। ঈদের দিন সামান্য বৃষ্টি হলেও উৎসবের খুব বেশি ভাটা পড়েনি।
যশোর জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, জেলায় মোট ঈদগাহ রয়েছে ১ হাজার ৭৬৯টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩৩০, চৌগাছায়, ১৯৭, ঝিকরগাছায় ২০৯, শার্শায় ২৪৯, মণিরামপুরে ১৪০, কেশবপুরে ২৬৮, অভয়নগরে ২২০ ও বাঘারপাড়ায় ১৫৬টি।
যশোরের উপশহর ঈদগাহে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে, বাবলাতলায় ঈদের জামাত হয়েছে সাড়ে ৮টায়, রেলস্টেশন প্লাটফর্ম, শংকরপুরে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শার্শার শালকোনা ঈদগাহে জামাত হয়েছে সকাল সাড়ে ৮টায়।
এদিকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন উপলক্ষে এবারো যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান নামাজের উপযোগী করার ব্যবস্থা করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টির মাঝেও নির্বিঘেœ নামাজ আদায়ে ১০ থেকে ১২ হাজার মুসল্লিদের সুবিধার্থে এবারো গোটা ময়দান ঢেকে দেয়া হয় ত্রিপলে।
যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু সাংবাদিকদের জানান, বর্ষার কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করা যেত না। এজন্য নির্বাচিত হওয়ার পর গতবছর ঈদে যাতে নির্বিঘেœ ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করা যায় সেই জন্য পুরো মাঠ ত্রিপল ও সামিয়ানা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাপক সাজ্জার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারো নির্বিঘেœ ঈদের নামাজ আদায়ে ৭৭ হাজার স্কয়ার ফিট ময়দানকে উপরে ফ্রেম ও ত্রিপলসহ ছামিয়ানা দিয়ে সিলিং প্রস্তুত ও পর্যাপ্ত সিলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়েছিল। নিচে নামাজ আদায়ের জায়গায় পলিথিনের উপর কার্পেট বিছানো হয়। এছাড়া মুসল্লিদের নিরপত্তার জন্য সম্পূর্ণ মাঠ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। এছাড়া পুরো মাঠ লাইটিং, ফ্যান ও মাইকের ব্যবস্থা করা হয়।

শেয়ার