মোদীর মন্ত্রিসভায় আসা প্রতাপের প্রশ্নবিদ্ধ অতীত

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ওড়িষ্যার এক কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দা প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গির নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাসের বন্যা বইলেও বজরং দলের সাবেক এই নেতার রয়েছে সন্দেহজনক অতীত।

১৯৯৯ সালে ভারতের ওই রাজ্যে অস্ট্রেলীয় খ্রিস্টান মিশনারি গ্রাহাম স্টেইনেস ও তার দুই ছেলেকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে উগ্রপন্থি হিন্দুদের একটি দল।

ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে উগ্রপন্থি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) যুব শাখা বজরং দলের হাত ছিল বলে সন্দেহ করা হয়। সে সময় বজরং দলের নেতা ছিলেন প্রতাপ সারেঙ্গি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৩ সালে ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য বজরং দলের সদস্য দারা সিংসহ ১৩ জনকে সাজা দেয় আদালত। তবে দুই বছরের মাথায় দারার মৃত্যুদণ্ডের সাজা লঘু করে দেয় ওড়িষ্যা হাই কোর্ট।

এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১১ জনকে মুক্তি দেয় হাই কোর্ট।

ওড়িষ্যার সাংবাদিক সন্দীপ সাহু বিবিসিকে বলেছেন, ওই ঘটনা নিয়ে তিনিসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে প্রতাপ সারেঙ্গির সাক্ষাৎকার নেন। এসব সাক্ষাৎকারে খ্রিস্টান মিশনারিদের বিরুদ্ধে ‘পুরো ভারতকে ধর্মান্তরিত’ করার ‘নীল নকশা’ নিয়ে কাজ করার অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রাহাম স্টেইনেসের ওপর হামলার ঘটনায় তার দুই শিশু সন্তানকে হত্যার নিন্দা জানালেও মিশনারিদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণ নিয়ে নিজের ওই অভিমতে অনড় ছিলেন তিনি।
বজরং দলসহ উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠন ২০০২ সালে ওড়িষ্যার বিধান সভায় হামলা চালানোর পর দাঙ্গা, আগুন দেওয়া, আক্রমণ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে প্রতাপ সারেঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
বিবিসি বলছে, চলতি সপ্তাহেই ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনায় আসা প্রতাপ সারেঙ্গি এর আগে রাজ্যের বাইরে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে ফেইসবুক-টুইটারে আলোচনায় তার অতীত কর্মকা- উঠে আসেনি, যেটা এসেছে তা হল তার সাদামাটা জীবন-যাপন।
বৃহস্পতিবার দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে যখন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়, তখন সবচেয়ে বেশি করতালি পড়েছিল দারিদ্র্যো ছাপ নিয়ে আসা প্রতাপ সারেঙ্গির শপথের সময়। তাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিমন্ত্রী করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সাংবাদিক সাহু বিবিসিকে বলেন, “নির্বাচনী এলাকাজুড়ে ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতে বাইসাইকেল নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘোরার জন্য পরিচিতি রয়েছে সারেঙ্গির। রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরেও তাকে দেখা যায় বিধান সভায় যোগ দিতে সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটে যাচ্ছেন, রাস্তার পাশের সাদামাটা রেস্তোরাঁর খাচ্ছেন বা রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছেন ট্রেনের জন্য।”

SHARE