যাত্রী সংকটে কোলকাতা-খুলনা ট্রেন

যশোর স্টপেজেই খালি থাকে দুই তৃতীয়াংশ সিট

জাহিদ হাসান
বেশি ভাড়া ও ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সে ভোগান্তির জন্য খুলনা-কোলকাতা ট্রেন সার্ভিস বন্ধন এক্সপ্রেসে কমে যাচ্ছে যাত্রীর সংখ্যা। ভ্রমণ নিরাপদ ও আরামদায়ক হলেও ট্রেনটির ভাড়ার পরিমাণ সড়ক পথের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় যশোর স্টপেজে যাত্রী মিলছে না। যশোর থেকে সড়ক পথে কোলকাতা যেতে একজন পাসপোর্ট যাত্রীর সর্বসাকুল্যে খরচ হয় বাংলাদেশি টাকার ছয়শ টাকা। এদিকে বন্ধন এক্সপ্রেসে চেপে কোলকাতা যেতে খরচ গুণতে হয় যাত্রীপ্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
জানা গেছে, সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার খুলনা-কোলকাতা রুটে চলাচল করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন যাত্রীবাহী মৈত্রী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’। যশোর জংশনের জন্য ট্রেনটির আসন বরাদ্দ ৭৫টি। কিন্তু যশোর স্টপেজ চালুর পর থেকে ট্রেনটির কোনো যাত্রায় ৩০টির বেশি আসন পূর্ণ হয়নি। এর কারণ হিসেবে যাত্রীরা বলছেন, প্রায়শই যাতায়াতের দিন ট্রেনটির উভয় পাশ থেকেই ছাড়তে দেরি হয়। ট্রেনটি কোলকাতা থেকে ছেড়ে আসে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়। আর খুলনা থেকে কোলকাতার উদ্দেশে রওয়ানা হয় দুপুর ২টায়। ট্রেন খুলনা থেকে ছেড়ে যাবার পর কোলকাতা স্টেশনে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পৌঁছানোর কথা থাকলেও রাত ৮টা বা ৯টা বেজে যায়। এর ফলে চিকিৎসা বা ভ্রমণের উদ্দেশে বের হওয়া যাত্রীরা সেখানে পৌঁছে পড়েন আবাসন সংকটে।
যাত্রীদের দাবি, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এখানে ১৩টি কাউন্টার থাকলেও সবগুলো সচল না থাকায় ক্লিয়ারেন্সে সময় বেশি লাগছে। ফলে কোলকাতা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এজন্য ট্রেনে ওঠার আগেই ইমিগ্রেশনে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। হলে যাত্রী বাড়বে বলে মনে করছেন চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের জন্য কোলকাতায় নিয়মিত যাতায়াতকারীরা।
যশোর রেলস্টেশন সূত্র মতে, চলতি বছরের ৭ মার্চ যশোর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে বন্ধন এক্সপ্রেস। প্রথম দিন ৭৫টি আসন বরাদ্দ থাকলেও ৩১ যাত্রী নিয়ে বন্ধন এক্সপ্রেস যাত্রা করেছিল। এরপর থেকে প্রতি যাত্রায় যাত্রী সংখ্যা নীচের দিকে নামছে। এ মাসের ২ তারিখে ৩০ জন, ৯ তারিখে ১৬ জন, ১৬ তারিখে ১১ জন ও ২৩ তারিখে ১৬ জন যাত্রী নিয়ে যশোর স্টপেজ ছেড়েছে ট্রেনটি।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ১২০ কিলোমিটার ট্রেন যাত্রায় এসি চেয়ারে নেয়া হচ্ছে ভ্রমণকরসহ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও এসি সিটে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ভ্রমণকরসহ দুই হাজার টাকা। অথচ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একজন পাসপোর্ট যাত্রীর কলকাতা যেতে ভ্রমণকরসহ খরচ হয় মাত্র ৬০০ টাকা। ফলে গত প্রায় আড়াই মাসে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে কমছে। এতে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে।
সম্প্রতি বন্ধন এক্সপ্রেসে করে কোলকাতায় যান তাজু রায়হান নামে একজন ব্যবসায়ী। তিনি জানান, ট্রেনের ভাড়ার পরিমাণ অনেক বেশি। এরচেয়ে সড়ক পথে ভাড়া অনেক কম। ভ্রমণ করসহ ছয়শ টাকা খরচ করে কোলকাতা যাওয়া যায়।
তুহিন হোসেন নামে আরেক যাত্রী জানান, ভারতীয় কাস্টমসে যাত্রী হয়রানি বন্ধসহ বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের ভারতে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাত অবস্থান বাধ্যতামূলক করায় এবং সপ্তাহে একদিন ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেস ট্রেন চালু থাকায় ট্রেনে করে কেউ আর যাতায়াত করতে চান না। সপ্তাহে ২-৩ দিন ট্রেন চলাচল ও ভাড়ার পরিমাণ কমালে যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
সাজেদা আক্তার নামে এক গৃহিণী বলেন, গত মাসে বন্ধন একপ্রেসে করে যশোর স্টেশন থেকে কোলকাতায় গিয়েছিলাম। দুপুর আড়াইটার পর ট্রেন যশোর স্টেশন ছাড়ে। ওদিকে রাত ৮টায় কোলকাতা পৌঁছে ছিলাম। থাকার জন্য হোটেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক চেষ্টা করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছিল। দুই পাশের ইমিগ্রেশনে তল্লাশির জন্য প্রচুর সময় ব্যয় হয়। যে কারণে কোলকাতায় ট্রেন পৌঁছতে বিলম্ব হয়।
এ বিষয়ে যশোর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নিগার সুলতানা বলেন, যশোর থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট কাছে থাকায় এ স্টেপেজ থেকে যাত্রীর সংখ্যা কম। যাত্রীর ভাড়ার মূল্য যদি কম করে ও সপ্তাহে ২-৩ দিন যাওয়া-আসার ব্যবস্থা হলে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

শেয়ার