সরকারি সংস্থাগুলোকে বকেয়া বিল পরিশোধে নির্দেশ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ যে সব সরকারি সংস্থার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে, তা দ্রুত পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ঢাকার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগের যে পাওনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা অতিসত্বর পরিশোধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”
প্রধানমন্ত্রী বকেয়া পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নোটিস দিতেও তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে এক হাজার ১৯১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কথা গত বছর জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গ্যাস বিলও বকেয়া কম নয়।
এসইসির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প কাজে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে খাস জমি থাকলে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ না করার নির্দেশও দেন বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান। এছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মান্নান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে এবং বেসরকারি খাতের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করে গবেষণাকাজ চালিয়ে যাওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া যাবে না। আবার একটি বিষয়ের গবেষণা যেন অনন্তকাল না চলে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
গবেষণার ফল নিজেদের অধিকারে রাখতে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি থেকে পেটেন্ট করিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দেন শেখ হাসিনা।
অসচেতনতার কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কিছু পণ্যের পেটেন্ট অন্য দেশের নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কেনা-কাটায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নানকে।
তিনি বলেন, “আমরা আইএমইডিকে নির্দেশ দেব বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য। এরপর প্রশসানিক পদক্ষেপ হিসেবে আইএমইডি‘র ওই প্রতিবেদন থেকে তথ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।”

SHARE