সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ছে যশোর, বৃষ্টির দেখা নেই

সালমান হাসান রাজিব
ঘূর্ণিঝড় ফণী চলে যাবার পর থেকে সারাদেশে তীব্র গরম পড়ছে। গতকাল শনিবারও ছিল দিনভর রোদের তেজ। শুধু তাই নয়, এদিন যশোরে ৩৯ দশমিক ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যা ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগের দিন শুক্রবারের অবস্থাও ছিল একই। এদিনও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে। ৩৮ দশমিক ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া পূর্বাভাস বলছে, যশোরসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে। যেটি আরো বেশ কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। যে কারণে আরো বেশ কয়েকদিন তীব্র গরম পড়বে। এছাড়া লঘুচাপের কারণে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হবার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে পূর্বাভাসে। পাশাপাশি আবহাওয়া শুষ্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ অতিক্রম করলে সেটি তীব্র তাপপ্রবাহ বিবেচনা করা হয়। গত দুই যুগে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। যেটি ছিল যশোরে।
যশোরে গত বেশ কয়েকদিন ধরে দিনেরাতে সমান তালে গরম পড়ছে। দিনের বেলায় সূর্যের প্রচণ্ড তেজ থাকে। একটু বেলা বাড়লেই সূর্য অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে। দিনভর তীব্রতাপদাহ থাকে। যার প্রভাব রাতের বেলায়ও পাওয়া যায়। দিনের বেলার মত অতটা গরম অনুভূত না হলেও রাতের বেলাতেও তার দাপট একেবারে কম না। দিনের মত রাতেও প্রচুর পরিমাণে গরম পড়ছে। ঘরে বাইরে প্রচণ্ড গরমের প্রভাব পড়ছে সবখানে। মানুষের পাশাপাশি প্রাণীকূলও কাহিল হয়ে পড়ছে। গরমের তীব্রতায় জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে। কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হওয়া মানুষজন গরমে নাকাল হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষজনের জীবন যেন নাভিশ্বাস উঠে গেছে। মাঠেঘাটে এখনও যারা ধান কাটছেন, ধান মাড়াই করে ঘরে তুলছেন তাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। দাবদাহের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে তারা ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছেন। এজন্য কাজ ফেলে খানিকটা সময় তাদের গাছের নীচে ছায়ায় বসে জিরিয়ে নিতে হচ্ছে। গরমের তীব্রতার কারণে ঘরের ভেতর বসেও কাজ করে স্বস্তি মিলছে না। এমনকি রোজাদাররাও কষ্ট পাচ্ছেন।