আগে পোশাক কেনার যুদ্ধে শিশুরা

জিল্লুর রহমান গালিব
ঈদ এক মহোৎসব। আর ঈদকে ঘিরেই সকল আনন্দ যেন শিশুদের মাঝেই লুকিয়ে আছে। এ জন্য অভিভাবকরা আগে ভাগেই ছুটছেন পোশাকের দোকানে। শিশু হাবিবা ও হাফসা দুই বোন এসেছে তাদের মায়ের সাথে ঈদের কেনাকাটা করতে। অনেক খুশি মনে একজন বলে উঠলো আমি সবার আগে কিনেছি। এই নিয়ে শুরু হলো তাদের তর্ক। হাফসা- হাবিবা ছাড়াও আরো অনেক শিশুই এভাবে আনন্দ করছে দিনভর।
যশোর শহরের বিভিন্ন দোকানে তেমনি খুশি ছড়িয়ে রেখেছেন দোকানিরা। জিরো থেকে শুরু করে সব বয়সের শিশুদের পোশাক রয়েছে শহরের বিভিন্ন দোকান ও অভিজাত শো-রুমগুলোতে। যার মধ্যে ছোট শিশুদের জন্য দোকানে তোলা হয়েছে গেঞ্জি সেট, হাফপ্যান্ট, ফতুয়াসহ আরো অনেক পোশাক। ৭ থেকে ১৬ বছরের শিশুদের জন্য রয়েছে শার্ট, গেঞ্জি, হাফ প্যান্ট, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, ফুলপ্যান্ট, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন কোয়ালিটির পোশাক।
সরেজমিনে যশোরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। শহরের কালেক্টরেট মার্কেটের মনির গার্মেন্টস’র বিক্রয়কর্মী মামুন হোসেন বলেন, শিশুদের জন্য এবার তেমন কোনো নতুন পোশাক না থাকলেও গরমের কারণে হাফহাতা গেঞ্জি ও ম্যাগিহাতা গেঞ্জির দিকে অভিভাবকদের নজর বেশি। একই দোকানের বিক্রয়কর্মী পারভেজ জানান, মেয়ে শিশুদের পোশাকের কথা। তিনি বলেন, মেয়ে শিশুদের জন্য প্রতিবারের ন্যায় এবারো তাদের নজর কাড়ছে পাতলা কাপড়ের ফ্রক, স্কার্ট, গাউন, টপস, টাইস, থ্রি পিস, টু পিস ও ওয়ান পিসের মতো পোশাক।
যশোরের রূপকথা, কাঁশবন, টম জেরি, ডরেমনের মতো এই মার্কেটে ৩-১৪ বছরের শিশুদের ফ্রক সাড়ে ৪ থেকে ৮শ’ টাকা, গাউন ৮শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা, লেহেঙ্গা ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা, স্কাট ১ হাজার থেকে ২ হাজার ২শ’ টাকা, লং ফ্রক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাপড়ের কোয়ালিটি অনুযায়ী ক্রেতারা ছেলে শিশুর জন্য জিন্স প্যান্ট ৭শ’, শার্ট ৬শ’ এবং টি-শার্ট ৫শ’ টাকায় কিনতে পারবেন।
মুজিব সড়কের কাঁশবন শোরুমের ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ছেলে কিংবা মেয়ে শিশুদের জন্য এ মার্কেটে কমপক্ষে এক থেকে দেড় হাজার টাকার বাজেট থাকলেই পছন্দমতো কেনাকাটা করা সম্ভব। তবে ভালো পোশাক নিতে খরচ করতে হবে।