বাগেরহাটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে-২ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘জমি আছে ঘর নেই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছে নানামুখী ক্ষোভ। গৃহ নির্মাণের অনিয়মের বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এমপি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রইালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার।
এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে তদন্তে নেমেছেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিন হোসেন। তিনি বলেন, দুই এক জায়গায় টয়লেট হয়েছে। তবে বেশির ভাগ জায়গাতেই টয়লেট নির্মাণ হয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছেএ তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রকল্পের সুবিধা ভোগীরা জানান, এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে শুধুমাত্র অসহায় ও দুস্থদের ঘর পাওয়ার কথা। মোংলা উপজেলায় নির্মিত ৪৮৫টি ঘর প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণকারী ও উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি এসব ঘর এখনই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিটি ঘরের সাথে টয়লেট নির্মাণের কথা থাকলেও সেখানেও হয়েছে পুকুর চুরি। ঘর সংযুক্ত টয়লেটের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১৯ হাজার টাকা। অধিকাংশ ঘরের সাথে টয়লেট নির্মাণ করা হয়নি। নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ছাড়াও শুধু ৪৮৫টি ঘরের অনুকুলে সমপরিমাণ টয়লেটের প্রায় ৭৭ লাখ টাকা তছরুফ হয়েছে। এনিয়ে ঘর পাওয়া দুস্থ পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ প্রকল্পের অধিনে ঘর পেয়েছেন মোংলার চিলা ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামের বিপুল মন্ডলসহ অনেকে বলেন, তাদের ঘরের সঙ্গে টয়লেট সংযুক্ত তো দুরের কথা, ঘরের বেড়ার প্রয়োজনীয় টিনও নিজেরা যোগান দিয়েছেন। নিজের পকেটের প্রায় ১৫ হাজার টাকার অধিক খরচ করেছেন ঘরের পিছনে। এমন অভিযোগ অধিকাংশ উপকারভোগীর।
মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ই¯্রাফিল হাওলাদার বলেন, তার ইউনিয়নে ১৫০টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু কিভাবে উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, তা আমার জানা নেই। এছাড়া ঘর নির্মাণের বরাদ্দ ও কোন প্রক্রিয়ায় ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে তাও অবগত নন তিনি। টয়লেটসহ স্বাস্থ্য সম্মত এসব ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও তার ইউনিয়নে যে সকল ঘর বরাদ্দ ও নির্মাণ করা হয়েছে তার একটিতেও টয়লেট নেই।
মোংলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান বলেন, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি ও তিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু সদস্য সচিব হিসেবে তার দায়িত্ব কাগজ কলমে ছিল। কিভাবে দুস্থদের তালিকা তৈরি ও গৃহ র্নিমাণ হয়েছে তার কিছুই জানা নেই। সবকিছুই এককভাবে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম করেছেন।
মোংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জমি আছে ঘর নেই, প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিলুট হয়েছে। ঘর নির্মাণের কাজে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, গত উপজেলা নির্বাচনে আমার নিরপেক্ষ ভুমিকায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী অসন্তোষ হয়ে আমাকে বদলী করিয়ে এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য গত ২১ এপ্রিল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ প্রকল্পের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় এমপি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করবেন বলেও ওই সভায় জানান উপমন্ত্রী।

শেয়ার