নিজের কাজটুকু করে রাখলেন আবু জায়েদ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আগের ম্যাচে দল চেয়েছিল পরখ করতে। সেটি হলো, কিন্তু মন ভরল না। দল চাইল বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা পেসারে বিশ্বাস ফেরাতে। এবার দুইয়ে দুইয়ে মিলল চার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ৫ উইকেট নিয়ে আবু জায়েদ জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ দলে তিনি অপাংক্তেয় নয়।

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বুধবার ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট মাঠে ৫৮ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন আবু জায়েদ। ২০১৫ সালের নভেম্বরে মুস্তাফিজুর রহমানের পর এই প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেলেন বাংলাদেশের কোনো বোলার।

যদিও খুব বিধ্বংসী ছিল না আবু জায়েদের বোলিং। ম্যাচের বিচারে ছিল না খুব প্রভাববিস্তারী। পাঁচ উইকেটের চারটিই এসেছে শেষের দিকে, প্রতিপক্ষ যখন ছিল রান বাড়ানোর তাড়ায়। এরপরও নিজের ছাপ কিছুটা হলেও রাখতে পেরেছেন ২৫ বছর বয়সী পেসার।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে তিনিই ছিলেন তখনও ওয়ানডে না খেলা একমাত্র ক্রিকেটার। দলে চমক বা বিতর্ক, সবই ছিল তাকে ঘিরে। এই ৫ উইকেটে বিতর্ক পুরো থামিয়ে দেবে না, সব প্রশ্নের জবাবও নয়। তবে তার পক্ষে যুক্তি আরেকটু জোরালো হবে। সবচেয়ে বড় কথা, তার জন্য হবে দারুণ আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া।

অভিষেক ম্যাচে গত সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন আবু জায়েদ। আয়ারল্যান্ড ম্যাচের আগে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন, আত্মবিশ্বাস পাওয়ার আরেকটি সুযোগ দেওয়া হবে আবু জায়েদকে। অধিনায়কের সেই চাওয়া, নিজের পাওয়া, সবই হলো এই পেসারের।

তবে আবু জায়েদের ৫ উইকেট বললে চোখের সামনে যে ছবিগুলো ভাসে, এই ম্যাচের চিত্র ছিল উল্টো। মূলত দুই দিকেই সুইং করানো, সহায়ক কন্ডিশন ও উইকেটে নতুন বল কাজে লাগানোর ভাবনায়ই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়েছে তাকে। এদিন কন্ডিশন কিছুটা সহায়ক থাকলেও উইকেট ছিল ব্যাটিং বান্ধব। আবু জায়েদ পাঁচ উইকেটের চারটি নিলেন পুরোনো বলে।

নতুন বলে নিজের সামর্থ্যের ঝলক অবশ্য আগের ম্যাচের তুলনায় এ দিন বেশি দেখাতে পেরেছেন। ৬ ওভারের প্রথম স্পেলে সুইং ও শেপ পেয়েছেন যথেষ্টই। কয়েকটি বল অল্পের জন্য ব্যাটের কানা নেয়নি। কয়েকটিতে ভুগেছেন ব্যাটসম্যানরা। পাশাপাশি আলগা বলও ছিল বেশ। জায়গা দিয়েছেন, শর্ট বল করেছেন। প্রথম উইকেটটিও মিলেছে লেগ স্টাম্পে থাকা শর্ট বলে।

এরপর স্লগ ওভারে যখন বোলিং করতে এলেন, বিশাল জুটি গড়ে তখন দ্রুত রান তুলতে শুরু করেছেন পল স্টার্লিং ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। ১৭৪ রানের জুটি ভাঙলেন আবু জায়েদ, ৯৪ রান করা পোর্টারফিল্ড ক্যাচ দিলেন উড়িয়ে মারতে গিয়ে।

পরে শেষ দিকের দুই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান কেভিন ও’ব্রায়েন ও গ্যারি উইলসনকেও থামিয়েছেন আবু জায়েদ। এই দুই উইকেটের মাঝে স্লোয়ার ডেলিভারিতে ফিরিয়েছেন ১৩০ রান করা স্টার্লিংকে। শেষের ওভারগুলোয় রান থামাতে যথেষ্ট বৈচিত্র্যও দেখাতে চেষ্টা করেছেন বোলিংয়ে।

নতুন বলে তার সামর্থ্য অনেকটা জানাই। পুরোনো বলের এই সাফল্য তার ওপর টিম ম্যানেজমেন্টের সার্বিক আস্থা বাড়াবে নিশ্চিতভাবেই। ফাইনালে বা বিশ্বকাপে কতটা সুযোগ পাবেন, সেটি বলবে সময়। আবু জায়েদ নিজে অন্তত তৃপ্তি পাবেন নিজের কাজটুকু করে রাখার।

শেয়ার