মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ দুই বছর আগে গঠিত জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনীকে দেয়া আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা বন্ধে বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০১৭ সালের অগাস্টে কয়েক ডজন নিরাপত্তা চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ওই অভিযানেই দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে।
সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ‘গণহত্যার অভিপ্রায়েই’ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ওই অভিযান চালিয়েছিল- গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের একটি প্যানেলের করা এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সরকার। শীর্ষ জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। জাতিসংঘ প্যানেলের সদস্য মানবাধিকার বিষয়ক অস্ট্রেলীয় আইনজীবী ক্রিস্টোফার সিদোতি বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত কিংবা রাখাইন সংকট মেটাতে মিয়ানমারের চেষ্টার প্রমাণ পাননি তারা।
দুই বছর আগে রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকেই মিয়ানমারে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াতে বাধা থাকলেও জাতিসংঘ প্যানেলের সদস্যরা চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো ঘুরে গেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, বলেছেন সিদোতি।
রাখাইনে সহিংসতা হ্রাস ও দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর চাপ বাড়াতে এসব সম্পর্ক ছিন্নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মত তার।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোন কোন রাষ্ট্রের কী ধরনের সম্পর্ক আছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের বিবৃতিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। রয়টার্স বলেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি আরও অনেক দেশের কাছ থেকেই অস্ত্র কেনে।
অন্যদিকে বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ রাখাইনে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে।
জেনেভাতে ২০১৭ সালের মার্চে মানবাধিকার কাউন্সিলে এ তথ্য অনুসন্ধানী দল গঠন করার সময়ও মিয়ানমার এর বিরোধিতা করেছিল।
মঙ্গলবার তাদের বিবৃতি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হাতোইয়ের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুন তুন নিওয়াই বলেছেন, জাতিসংঘের এ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ হাজির করছে। “আমাদের দেশ একটি স্বাধীন দেশ, সে কারণেই নিজেদের বিষয়ে কারও হস্তক্ষেপ মেনে নিই না আমরা,” বলেছেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে সরকারের মনোনীত একটি তদন্ত দলকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে বলেও জানিয়েছেন তুন তুন। মানবাধিকার কর্মীরা অবশ্য ওই তদন্ত দলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

SHARE