ফিঙে লিটন বাহিনীর হাতে মারপিটের শিকার আরও এক ইজিবাইক চালক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সহকর্মী ইজিবাইক ভাংচুরের ঘটনায় থানায় আসার জের ধরে এবার মনিরুল ইসলামকে মারপিটের পর আটকে রাখে সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শহরের মণিহার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম শহরের শংকরপুর এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি পেশায় ইজিবাইক চালক। শহরের বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক নিয়ে যাতায়াত করেন। মণিহার এলাকায় দক্ষিণ বঙ্গের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভাই সাইদুর রহমান ডিম রিপনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী। ওই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক বিক্রি, অস্ত্রবাজি ও খুনখারাবিসহ নানা ধরনের অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তাদের ওই সকল অপকর্মে কেউ বাধা দিলে মারপিটসহ খুনখারাবির ঘটনাও করে থাকে। সম্প্রতি তারা ইজিবাইক কল্যাণ সোসাইটি নামে একটি সংগঠনের নাম দিয়ে চাঁদা আদায় করছে। তাদের চাঁদায় অর্ন্তভুক্তির ক্ষেত্রে ৭শ’ টাকা এবং প্রতিদিন ২০ টাকা করে দিতে হয়। আর ওই টাকা না দিলে তাদের মারপিট করা হয়ে থাকে। গত সোমবার সকালে শহিদ এবং দুলাল নামে কয়েকজন চালক ইজিবাইক নিয়ে মণিহার এলাকায় গেলে ডিম রিপন, সাবেক পরিবহন শ্রমিক নেতা ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে আসাদুজ্জামান সুমনের নেতৃত্বে লিটন, স্বপন, মামুন, মাসুদ, শাহ আলম ও বরকতসহ কয়েকজনে তাদের মারপিট এবং ইজিবাইক ভাংচুর করে। এঘটনায় সোমবার শহিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এসময় তিনি শহিদের সাথে থানায় এসেছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় সন্ত্রাসী ফিঙে লিটন বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে ইজিবাইক নিয়ে মণিহার এলাকায় যান মনিরুল ইসলাম। এসময় ডিম রিপনসহ ওই সন্ত্রাসীরা তাকে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায় তাকে ধরে নিয়ে যায় মণিহার এলাকার কোকো আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয়তলায় ইজিবাইক কল্যাণ সোসাইটির অফিসে। সেখানে তাকে আটকে রেখে আবারো মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা থেকে এসআই শামিম আক্তারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে যান। কিন্তু সন্ত্রাসী বাহিনী পুলিশের উপস্থিতির পরই মনিরুলের হাতে একটি চাকু ধরে দিয়ে বলেছে সে ছিনতাইকারী। ছিনতাই করতে এলে তাকে ধরে গণধোলাই দেয়া হচ্ছে। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় আনার পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ থানায় এখনো কোন অভিযোগ দেয়নি।

SHARE