ছিট কাপড়ের দোকানে ঢু-মারছে ক্রেতারা

সালমান হাসান রাজিব
ঈদ এলে নানা রকমের পরিকল্পনা মাথায় ভিড় করে। বন্ধুদের নিয়ে দিনভর ঘোরাঘুরি। কবজি ডুবিয়ে জমিয়ে খানাপিনা। জমপেশ আড্ডাবাজি। হৈহুল্লোর। এসবের পাশাপাশি ভাবনার একটা বড় অংশ ঘিরে থাকে কেতাদুরস্ত পোশাক নিয়ে। ঈদ উৎসবের এই দিনটিতে প্রত্যেকেই নিজেকে সবার চাইতে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে চায়। তাই ঈদ আসলে সবার ভেতরেই নানান রং-ডিজাইন ও ঢঙের পোশাকের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়।
দেখতে দেখতে পার হয়েছে আটটি রোজা। এরই মধ্যে অনেকেই ঈদের পোশাক বানানোর জন্য নড়েচড়ে বসেছে। কাপড় কিনতে তারা শহরের মার্কেটপাড়ায় ঢু-মারতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে যারা নিজেদের পছন্দমাফিক ডিজাইন, প্রিন্ট ও কালারের পোশাক পরতে ভালোবাসেন, মূলত তারাই ছিট কাপড়ের দোকানে ঘুরছেন। পছন্দের কাপড় কিনছেন। ফলে যশোর শহরের ছিট কাপড়ের দোকানে অল্পমাত্রায় হলেও ঈদ বাজারের হাওয়া লেগেছে। ছিট কাপড় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে এখনো ঈদের কেনাকাটা জমেনি। তবে অল্পবিস্তর ক্রেতা সমাগম হচ্ছে। কিন্তু সেটি বছরের অন্য সময়ের মতনই গতানুগতিক।
এবারের ঈদ বাজারের হালহকিকত জানতে সম্প্রতি যশোর শহরের বিভিন্ন ছিট কাপড়ের দোকানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, হাল ফ্যাশনের পাশাপাশি আরাম ও স্বস্তির বিষয়টি মাথায় রেখে পোশাক পছন্দ চলছে। যেহেতু পুরোপুরি গরমের ভেতর ঈদ, সেহেতু পোশাকে আরামের কথা ভেবে অনেকে সুতির ভেতর নিজেদের পছন্দ খুঁজে নিতে চাইছেন।
আবার অনেকে চাইছেন তাদের ঈদের পোশাকটা জমকালো হওয়া চাই। এ ব্যাপারে তাদের ভাবখানা যেন এমন রোদ গরমে ‘কুছ পরোয়া নেই’। জানা গেছে, এবারের ঈদ বাজারে সুতির পাশাপাশি হরেক রকমের পোশাকের কাপড় বাজার ছেয়ে গেছে। নেটের উপর বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ, ভেলভেটের উপর রংবেরঙের সুতোর কাজ ও পিওর জর্জেটের পাশাপাশি নেটের উপর বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ ও পুঁতি বসানো কাপড়ের সংগ্রহ রয়েছে বলে জানান, শহরের বড়বাজার এলাকার ছিট কাপড় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ছিট সম্ভারের স্বত্বাধিকারী সাদাব তানভির। ঈদবাজারের বেচাকেনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানো সেভাবে জমে ওঠেনি। ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে মনে হচ্ছে এবার বেশ সময় লাগবে।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, মেয়েদের জামা পাজামা বানানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের সুতি কাপড় ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা গজ বিক্রি হচ্ছে। নেটের উপর চিকেনের কাজ করা কাপড়ের গজ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, ভেলভেটের উপর সুতোর কাজ করা কাপড় প্রতি গজ ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, পিওর জর্জেট ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা গজ দরে বেচাবিক্রি চলছে।
এদিকে ছেলেদের অনেকে প্যান্ট, শার্টের পিস ও পাঞ্জাবির কাপড় কিনছেন। রেমন্ড, সঞ্জু কটন, টিসু-টি, সেঞ্চুরি, বিরালা কটনসহ বিভিন্ন নামি ব্রান্ডের শার্ট ও প্যান্টের কাপড় ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ক্রেতাদের অনেকে পাঞ্জাবি পাজামা বানানোর জন্য সুতি, সিল্ক, আর্দি কাপড় কিনছেন। এসব কাপড় মানভেদে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা গজ দরে বিক্রি হচ্ছে।
শহরের বড় বাজার এলাকায় এইচএম ক্লথ স্টোরে আলাপ হয় নওরিন সুলতানা ও তামান্না নাসরিন নামে দুজন ক্রেতার সাথে। তারা বলেন, একটা গাউন ও কুর্তা বানানোর জন্য কাপড় পছন্দ করছি। ভাবছি কুর্তার জন্য সুতির ভেতর কিছু একটা কিনব। আর গাউন তৈরির জন্য ভেলভেট কিম্বা নেটের উপর কাজ করা কাপড় কিনব। এই দুই ক্রেতার পাশাপাশি কথা হয় পোশাকের কাপড় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রাফিউল আলম বাবুর সাথে। ঈদ বাজারে বেচাকেনা বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ঈদের বাজার হিসেবে ক্রেতা সমাগম নেই বললেই চলে। অন্যবছর এই সময়টাতে গজ কাপড়ের দোকানে যে ধরণের ক্রেতা উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবার তেমন হচ্ছে না। প্রচুর গরম পড়ছে। এটিও ক্রেতা উপস্থিতির একটি কারণ হতে পারে। এছাড়া এখন মাঠে ফসল কাটা চলছে। ফসল বিক্রির পর মানুষের হাতে তখন নগদ টাকা আসলে তখন ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়বে আরো বলেন তিনি।