যশোরে ফিঙে লিটন বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি
ঈদের সামনে রেখে তৎপর ক্যাডাররা, চাঁদা না দিলেই মারপিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেছে যশোরের ফিঙে লিটন বাহিনীর সদস্যরা। শহরের বিভিন্ন স্থানে তাদের বাহিনী দিয়ে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর চাঁদা না দিলেই শিকার হতে হয় হামলা, মারপিট, নির্যাতনের। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মণিহার এলাকায় চাঁদা না চেয়ায় কয়েকজন চালককে মারপিট এবং তিনটি ইজিবাইক ভাংচুর করেছে। এঘটনায় বিক্ষুব্ধ চালকরা এদিন দুপুরে থানা ঘেরাও শেষে অভিযোগ দিয়েছে।
ভুক্তভোগী যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইজিবাইক চালক শহিদুল ইসলাম শহিদ জানিয়েছেন, তিনি যশোর পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু গাড়ি নিয়ে মণিহার এলাকায় গেলে কয়েকজন লোক তার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদার পরিমান এককালীন ৭শ’ টাকা দিয়ে একটি স্টিকার এবং প্রতিদিন ২০ টাকা করে দিতে হবে। ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন ধরে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল সন্ত্রাসীরা। সোমবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ইজিবাইক নিয়ে মণিহার এলাকায় যান। এসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিচুর রহমান ফিঙে লিটনের ছোট ভাই সাইদুর রহমান ডিম রিপন, সাবেক পরিবহন শ্রমিক নেতা ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে আসাদুজ্জামান সুমন, একই এলাকার মাসুদ, স্বপন, লিটনসহ ১০/১২ জন চালক শহিদের ইজিবাইক ভাংচুর করে এবং তাকে মারপিট করে। এসময় তাকে রক্ষা করতে আসা আরেক ইজিবাইক চালক দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদেরও মারপিট করে। এরপর বিক্ষুব্ধ ইজিবাইক চালকেরা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও শেষে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর তারা পৌরসভায়ও অভিযোগ দেন।
সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী ডিম রিপন এবং আসাদুজ্জামান সুমনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরের মণিহার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিল। ইজিবাইক থেকে ইজিবাইক কল্যাণ সোসাইটি নামে একটি সংগঠন করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চাঁদার পোস্ট বসিয়েছে। চালকদের জিম্মি করে তাদের সংগঠনের সদস্য হতে বাধ্য করা হয়। তবে সদস্য হতে প্রথমে ৭শ’ টাকা এবং প্রতি ট্রিপে দিতে হয় আরো ২০ টাকা করে।
এছাড়া হিউম্যান হলার নামে আরো একটি সংগঠন করে সেখানেও চাঁদাবাজি করে আসছে। এলাকার ফলপট্টি, মটর পার্টস ব্যবসায়ী, গাড়ি চোর সিন্ডিকেট, পরিবহন সেক্টরসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা প্রতিনিয়ত চাঁদা আদায় করে আসছে। কেউই তাদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারপিটসহ যানবাহন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়।
ভুক্তভোগী আরেক ইজিবাইক চালক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, এদিনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে পাশাপাশি পৌরসভাকেও অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইজিবাইজ চালকরা আসছে ঈদে যেন কোন প্রকার চাঁদাবাজির শিকার না হয় সে ব্যবস্থার আহবান জানিয়েছেন।
এব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আমিরুজ্জামান বলেছেন, ভুক্তভোগী ইজিবাইক চালক শহিদের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

SHARE