যশোরের টিসিবির ডিলার ৭২, পণ্য তুলেছেন সাতজন

দেবু মল্লিক
যশোরের আট উপজেলায় তালিকাভুক্ত ৭২জন ডিলার থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র সাতজন টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন যশোর সদর উপজেলায় চারজন এবং কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরে একজন।
বাকি মণিরামপুর, শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় কোনো ডিলারই টিসিবি’র পণ্য উত্তোলন করেননি। ফলে সরকারের দেওয়া টিসিবির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব উপজেলার মানুষ।
চলতি বছর টিসিবির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে চিনি ৪৭ টাকা, মসুর ডাল ৪৪টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, সয়াবিল তেল ৮৫ টাকা এবং খেজুর ১৩৫টাকা করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ডিলাররা পণ্য বিক্রি করছেন। কিন্তু যশোরে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ ডিলার থাকলেও তাদের অধিকাংশই এখনো পণ্য উত্তোলন করেননি।
খুলনা টিসিবি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর যশোর সদর উপজেলায় আদি এন্টারপ্রাইজ, মাহফুজ ট্রেডিং, লোকনাথ ভান্ডার ও ইমন এন্টারপ্রাইজ নামে চারটি প্রতিষ্ঠান টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেছে। এছাড়া কেশবপুরের বারী এন্টারপ্রাইজ, বাঘারপাড়ার ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ এবং অভয়নগরের এসএমসি ট্রেডার্স পণ্য উত্তোলন করেছে। এদের মধ্যে যশোরের আদি এন্টারপ্রাইজ ও মাহফুজ ট্রেডিং ট্রাকে করে যশোর শহরে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছে। তারা প্রত্যেকে প্রতিদিন ৫০০ কেজি চিনি, ৪০০ কেজি ছোলা, ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০০ কেজি মসুর ডাল এবং ৫০০ কেজি খেজুর বিক্রি করছে। অন্যরা এক হাজার কেজি চিনি, এক হাজার লিটার সয়াবিন তেল, ৫০০ কেজি ছোলা এবং ৪০০ কেজি করে মসুর ডাল উত্তোলন করেছে।
টিসিবি কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৩ এপ্রিল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৩ জুন পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক জেলা শহরে চারটি এবং উপজেলা শহরে তিনটি করে ডিলার থাকার কথা। সেই অনুযায়ী যশোরে ২৫ জন ডিলার দরকার। কিন্তু যশোরে রয়েছে তার চেয়ে বেশি ৭২ জন। তবে বেশি থাকলেও তাদের অধিকাংশই এখনো পণ্য উত্তোলন করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উত্তোলন না করা প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ এবার বাতিল করা হবে।
টিসিবির খুলনার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী (অফিস প্রধান) রবিউল মোর্শেদ বলেন, যশোর শহরে ট্রাকে করে দুইজন ডিলার প্রতিদিন এক হাজার কেজি খেজুর, ৬০০ কেজি মসুর ডাল, এক হাজার কেজি চিনি, ৮০০ কেজি ছোলা এবং ৮০০ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করছে। তারা প্রত্যেকে তিনদিন পর পর তাদের বরাদ্দকৃত পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কেশবপুর, বাঘারপাড়া এবং অভয়নগরে একজন করে ডিলার তাদের বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন করেছে। আর যারা লাইসেন্সধারী রয়েছে কিন্তু পণ্য উত্তোলন করেনি তাদের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।