‘গাঁজা দেয়ার’ ভয় দেখিয়ে দারোগার দু’লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ৭ হাজারে তুষ্ট!

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ফেরিওয়ালাকে গাঁজা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার দারোগা মেজবাহ উদ্দিন দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে ৭ হাজার টাকা, থ্রি পিস এবং কাঁচের গ্লাস হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার দুপুরে শহরতলীর মুড়লী মোড়ে এ ঘটনার পর ওই ফেরিওয়ালাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা বাদশা মিয়া যশোর শহরতলীর মুড়লী এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল মজিদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি ফেরি করে শাড়ি, থ্রি পিচ, ক্রোকারিজ সামগ্রী বিক্রি করেন। একই সাথে তাদের এলাকার আরো ২০/২৫ জন রয়েছে। তারা গত শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ভাড়া বাসায় ছিলেন। এসময় কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মেজবাহ উদ্দিন ও এক কনস্টেবল একটি মাইক্রোবাস নিয়ে সেখানে হাজির হন। সেখানে যাওয়ার পর দারোগা ওই ফেরওিয়ালাদের বলেন, তোমাদের সকল পণ্য অবৈধ। এরপর ব্যবসায়ী বাদশা মিয়ার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। তাদের কাছে এসময় দারোগা ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আর ঘুষের টাকা না দিলে গাঁজা দিয়ে মামলা দেয়া হবে। ভয়ে আতংকে সবাই দারোগার কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করেন। কিন্তু নাছোড় বান্দা ওই দারোগা কোন কিছুতেই ছাড়তে নারাজ। এক পর্যায়ে ওই সময়ে তাদের কাছে থাকা ৭ হাজার টাকা, দুইটি থ্রি পিস এবং দুইটি কাঁচের গ্লাস নিয়ে দারোগা চলে আসেন। বিষয়টি ফেরিওয়ালারা তাদের কুষ্টিয়ায় আত্মীয় স্বজনদের অবহিত করেন। এ ঘটনায় সেই এলাকা থেকে যশোর প্রশাসনের কাছে ফোনে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করা হয় বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। আর সে কারণে সোমবার দারোগা মেজবাহ উদ্দিন ফেরিওয়ালাদের কাছে সরি বলেছেন।
কিন্তু ভুক্তভোগী বাদশা মিয়ার বক্তব্য তিনি গরীব মানুষ। পুলিশ একবারে গিয়ে হাজার দশেক টাকার বাড়ি দিয়েছেন। আবার কোন পুলিশ এভাবে তাদের আটক বা হয়রানি করবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ২০/২৫ জন ফেরিওয়ালা।
ভুক্তভোগী আমানত আলী বলেছেন, আমরা গরীব মানুষ আসছে ঈদে পরিবারের বাজার করার টাকা তো পুলিশের পেটেই চলে গেল। বিষয়টি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান বলেছেন, ঘটনা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেছেন।

শেয়ার