২৬ সেপ্টেম্বর যশোর আ’লীগের সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ২৬ সেপ্টেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন নির্ধারিত হয়েছে। রোববার বিকালে যশোর শহরের বিডি হল মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা থেকে এ সম্মেলনের দিন নির্ধারিত হয়। দলের খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বর্ধিত সভায় এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এরপর অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা সম্মেলনের আগে উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। এসময় তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সারা পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের এই ধারা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য আওয়ামী লীগকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় আনতে হবে। সেজন্য দলকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে। ২০২০ সালে মুজিব বর্ষ উদ্যাপন হবে। এর আগে যশোরের আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায় থেকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
বিশেষ বর্ধিত সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব- উল আলম হানিফ বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে যেসব এমপি কাজ করেছেন। তাদের তালিকা নেত্রীর কাছে রয়েছে। আগামীতে তারা নৌকার মনোনয়ন পাবেন না। কর্মীরা প্রায়ই বলেন কই কিছুই তো হয় না। কিন্তু নৌকার বিরোধিতাকারীরা একদিন না একদিন এর ফল পাবেই।’
হানিফ আরও বলেন, শেখ হাসিনা সংসদ নির্বাচনে যাকেই নৌকা প্রতীক দেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নেয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপির পছন্দের বাইরে তৃণমূলের কেউ নৌকা পেলে (এমপি) তিনি নাখোশ হবেন। বিরোধিতা করবেন। এটা হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে দেশে এখন বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের আয় বেড়েছে। ফলে আমাদের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যখন কোনো ভাল কাজ করেন, তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে যখন তিনি উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন ফের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্য সরকারকে বিব্রত করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা। যাতে বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার যে লক্ষ্য সেটি অর্জনে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল বিএনপি- জামায়াত জোট সরকার। তাদের শাসন আমলে কমিশন বাণিজ্যের কারণে দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাদের চরম দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় নাম লেখায়। কিন্তু আজ তারা দুর্নীতিবিরোধী কথা বলে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় তারেক রহমান হাওয়া ভবন থেকে দেশ পরিচালনা করত। সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে আশ্রয় করে সারাজীবন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা ছিল তারেকের। এজন্য আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে হাওয়া ভবন থেকে তারেকের নির্দেশে সেসময় সারাদেশে ২৪ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগের ১০ হাজার নারীকর্মীকে নির্যাতন করা হয়। এভাবে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেই খারাপ পরিস্থিতি থেকে আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্মসম্পাদক ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয় ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্য সেটি বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এজন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এই নেতা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
এসময় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, কোনো অপশক্তি পুনরায় যেন আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় না আসতে পারে সেজন্য দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দলকে সুসংগঠিত করে গড়ে তুলতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
এদিন বর্ধিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এএসএম কামাল হোসেন, আমিরুল ইসলাম, পারভীন জামান কল্পনা, যশোর-৫ আসনের এমপি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর-৬ আসনের এমপি ইসমাত আরা সাদেক, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের এমপি ডা. নাসির উদ্দিন ও যশোর-৫ আসনের এমপি রণজিৎ কুমার রায়।
বিশেষ বর্ধিত সভায় সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন যশোর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাহামুদুল হাসান, অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরদার ওলিয়ার রহমান, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি মাসুদ চৌধুরী, ঝিকরগাছা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু। বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মুজিবুদৌল্লাহ সরদার কনক।

শেয়ার