বাঘারপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার তিন মাস পর আদালতে হত্যাচেষ্টার মামলা

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি ॥ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার তিন মাস পর আদালতে মামলা করেছে এক শিক্ষার্থীর মা। ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিকে না পেয়ে অন্যকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি বাঘারপাড়ার বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাইফুল ইসলাম মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়। সাইফুল কিসমত বাসুয়াড়ির শফিকুল ইসলাম ওরফে খোকন মোড়লের ছেলে। এদিন বেলা তিনটার দিকে ওই বিদ্যালয়ের নিকটে মোস্তফা ফকিরের বাড়ির পাশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাগডাঙ্গা গ্রামের ওমর আলী গাজীর ছেলে আসাদ গাজী জানিয়েছেন, সাইফুল বেপরোয়া গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলো। মোস্তাফা ফকিরের বাড়ির সোজা এসেই একটি নারিকেল গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এরপর সংজ্ঞাহীন সাইফুলকে আমি ও মোস্তফা ফকির উদ্ধার করে ঘোষনগর বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসক আলাউদ্দীনের দোকানে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরতর হওয়ায় তাকে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর সেখানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, দপ্তরিসহ অনেকেই ছুটে আসেন। অথচ এ ঘটনাটিকে মিথ্যা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মারামারির ঘটনা উল্ল্খে করে তিন মাস পর আদালতে মামলা করেছে সাইফুলের মা বিউটি বেগম।
মামলার বাদী সাইফুলের মা বিউটি বেগম ৩০ এপ্রিল যশোর আমলী আদলতে মামলা করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান অভিযোগ আমলে নিয়ে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইন-চার্জকে এফআইআর হিসাবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। বাঘারপাড়া থানায় বিষয়টি গত ৫ মে মামলা হিসাবে রেকর্ড করে। মামলা নং ৪। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ২ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে সাইফুল মোটর সাইকেল যোগে বাগডাঙ্গায় দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলো। বেলা একটার দিকে পরিকল্পিতভাবে তার প্রতিবেশি পুড়া খালেকের ছেলে সাহাদৎ মোড়ল, জাহিদ মোড়ল, শাহাজাহান মোড়ল ও তার ছেলে আলমঙ্গীর মোড়ল, জামায় সহিদ হত্যার উদ্দেশ্য সাইফুলকে মারপিট করে।
বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলায় বিউটি বেগম যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাইফুল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। যার প্রতক্ষ্যদর্শী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সাইফুল বাড়িতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আমিসহ এলাকার কয়েকজন আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে তাকে গত ২৭ এপ্রিল ঢাকায় পাঠায়। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসে। এরপর একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে প্রতিবেশিদের ফাঁসাতে মামলা করেছে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল সেখানে ৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৬ টা ২০ মিনিটে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেয়। তখনকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। যার রেজি নং (জঃ বি) ৯৮৭/৩১ ও (আঃ বি) ৭৪৫। সাইফুল পুরুষ ৯ নং ওয়ার্ডের ১২ নং সিটে চারদিন অবস্থান করে ৬ ফেব্রুয়ারি ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। প্রাথমিক ও ভর্তি রেজিস্টারসহ রোগী ভর্তির টিকেটে স্পষ্ট উল্লেখ আসে সাইফুল সড়ক দুর্ঘটনায় (আরটিএ) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানিয়েছেন, সাইফুল স্কুলের সামনেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। অনেকেই বিষয়টি জানে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করলেই সত্যটা জানতে পারবে।
অন্যদিকে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ মামলা রেকর্ডের দিন রাতে চারজনকে আটক করে পরদিন আদালতে পাঠায়। আটককৃতরা হলেন সাঈদ মোড়ল, শাহাজাহান মোড়ল, আলমঙ্গীর মোড়ল ও জামায় সহিদ। মামলার এজাহারে সাঈদ মোড়লের নাম নেই। অথচ পুলিশ তাকে আদালতে পাঠিয়েছে। গত ৮ মে সকলেই জামিনে মুক্তি পেয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বাঘারপাড়া থানার এসআই আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, সাঈদ মোড়ল গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজেকে শাহাদৎ মোড়ল হিসাবে পরিচয় দিয়েছে।
বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন মোল্যা জানিয়েছেন, মামলার বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। যে কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করেছে।

শেয়ার