কালীগঞ্জে মাদ্রাসা ও স্কুলের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ ॥ দুইজন আটক

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পৃথক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী ও দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে।
শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের খালকোলা (বৃত্তিপাড়া) গ্রামের আব্দুল রউফের ছেলে আল-আমিনসহ অপর এক যুবকদশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৫) জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে মাঠের মধ্যে রাতভর ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। ধর্ষিতা মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
ধর্ষিতার পিতা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে তার মেয়ে পাশের একটি বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনের চার্জার আনতে যায়। চার্জার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা আল-আমিন ও তার সহযোগি তার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তাকে হাত পা ও মুখ বেঁধে মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। রাতে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। শনিবার সকালে গ্রামের কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে আল-আমিন এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইউনুচ আলী বলেন, এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় আল-আমিনসহ অজ্ঞাত অপর এক ব্যক্তির নামে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে ৭ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় তিন যুবকের নামে মামলা হয়েছে। শনিবার (১১ মে) দুপুরে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হচ্ছে, কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের বদর উদ্দীনের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২২), একই গ্রামের মৃত রবিউল ইসলাম নবীর ছেলে গোলাম মোর্তুজা বাপ্পি (২৪) ও রবিউল ইসলামের ছেলে জাকারিয়া ওরফে টুটুল (২৩)। পুলিশ খায়রুল ও তার সহযোগি গোলাম মোর্তুজা বাপ্পিকে আটক করেছে। তাদের সহযোগি পালিয়ে গেছে।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, গত ২৫ এপ্রিল রাতে খায়রুল ইসলাম ওই স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে করার কথা বলে ডেকে নিয়ে বাপ্পি ও টুটুলের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় ৩ যুবককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৯।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইউনুচ আলী বলেন, এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় তিন জনের নামে মামলা হয়েছে। খায়রুল ইসলাম ও তার সহযোগি গোলাম মোর্তুজা বাপ্পিকে আটক করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।

শেয়ার