খোশ আমদেদ মাহে রমজান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মাহে রমজানের আজ ৫ম দিবস। এ মাসে মনকাড়া নানা আয়োজন উপভোগে রাতদিন মুমিন মন থাকে মশগুল। আপনি রমজানের মৌসুমে জনপদের যে প্রান্তেই অবস্থান করুন, ভোররাতে নানা ধরনের গজলের সুর কানে আসবেই। মুসলিম শিশু-কিশোর স্বেচ্ছাসেবী দল, মসজিদ কমিটি কিংবা মুয়াজ্জিন নানা কোরাস তুলে ঘণ্টাধ্বনি কিংবা সাইরেন দিয়ে সাহরী গ্রহণের জন্য রোজাদারদের নিদ্রাভঙ্গের প্রয়াস চালায়। যেমন কোথাও কোথাও কিশোররা মসজিদের মাইক থেকে ভোররাতে গেয়ে ওঠে:
রমজানেরই রাতের শেষে/ঘুমিয়ে কেন তুমি এখন
সাহরীর যে সময় হলো/ উঠো উঠো মুমিনগণ। ’
সাহরী অর্থ কোন কিছু পানাহার পূর্বক প্রত্যুষে সুবহে সাদিকের আগে রোজার শুভ সূচনা করা (আমাদের অনেকে সাহারীকে ‘সেহেরি’ বলে, এটা শুদ্ধ নয়। তবুও এটা প্রচলন হয়ে আছে)। উল্লেখ্য, সাহরী/সেহেরি ভোররাতে নিছক একটি খানাপিনার আয়োজন নয়। এ’টি ইসলাম ধর্মে ইবাদতের মধ্যে শামিল। এ এক পবিত্র মুহূর্ত। আল কোরানে এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: তোমরা পানাহার কর, যে পর্যন্ত তোমাদের জন্য সাদা সুতা কালো সুতা হতে সুস্পষ্ট না হয়।’ রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন তোমরা সাহরী খাও। কেননা এতে বড় বরকত নিহিত।’ -বুখারী
বিখ্যাত সাহাবী হজরত যায়িদ ইবনে সাবিত (রাদি:) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা প্রিয় নবী হুজুরে কারীম (স.) এর সঙ্গে সাহরী খেয়েছি। পরে তিনি ফজরের নামাজ পড়েছেন। সাহাবী যায়েদ (রাদি:) স্মৃতি রোমাঞ্চনের সময় একজন জানতে চাইলেন তখন আজান ও সাহরীর মধ্যে কতটুকু ব্যবধান ছিল? উত্তর তিনি জানালেন ৫০ আয়াত তিলাওয়াত করতে যে সময় লাগে সে সময় পরিমাণ।’ রাসূলে আকরাম (স.) অন্যত্র বলেছেন : নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর ফিরেস্তারা সাহরী গ্রহণকারীর ওপর রহমত ও দোয়া প্রেরণ করেন। -(ফাজায়েলে তাবরানী)।
সুতরাং আমরা যেন সাহরী অনুষ্ঠানকে রমজানের পালনীয় একটি অন্যতম সুন্দর অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করি। কোন ধর্মীয় ব্যাপারে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি কিংবা কৃত্রিমতার আশ্রয় নেয়া উচিত নয়। আল্লাহপাক বান্দাকে শুধু উপোস রেখে পরীক্ষা করতে চান তা নয়, পবিত্র ও হালালপন্থায় পানাহারের যে তাগিদ রয়েছে সাহরীর প্রতি ইসলামের উৎসাহ প্রদান সে ইঙ্গিত বহন করে। মহানবী হজরত মুহম্মদ (স.) তো স্পষ্টত বলে ফেলেছেন : ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার পার্থক্য হচ্ছে সাহরী খাওয়া নিয়ে।’ (ইমাম মুসলিম হাদিসটি আমর ইবনুল আসের (রাদি) উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন)।
রোজার সূচনায় যেমন রয়েছে সাহরী গ্রহণের বিষয়, তেমনি রোজার সমাপ্তিতে রয়েছে ইফতার গ্রহণের বিষয়। ইফতার অর্থ সূর্য ডোবার পর কোন পানাহার দিয়ে রোজা ভঙ্গ করা। রোজা রাখা যেমন সাওয়াবের কাজ, সাহরী গ্রহণ যেমন বরকতের কাজ, তেমনি যথাসময়ে ইফতার গ্রহণও ইসলাম ধর্মের রোজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও পুণ্যের কাজ। আমরা অনেক সময় ব্যস্ততা ও অবহেলার কারণে বিষয়টি বেমালুম ভুলে যাই। আর কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত মনে করেন দেরিতে ইফতার করা বুঝি একটু বেশি সাওয়াবের কাজ। এমন ধারণা মোটেই ঠিক নয়। আমাদের দয়াল নবী হজরত মুহম্মদ (স.) রোজার অনুশাসন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানব কল্যাণের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তার ওপর লাখো দরুদ ও সালাম, তিনি যথার্থই বলেছেন: আমার উম্মতগণ ততদিন পর্যন্ত বরকতময় ও প্রাচুর্যময় জীবন অতিবাহিত করবে যতদিন তারা যথাসময়ে মুখে ইফতার নেবে।’ তাই আমাদের উচিত দিনভর সিয়াম সাধনা করার পর সূর্যাস্ত গেলে কাল বিলম্ব না করে ইফতার গ্রহণ করি।

শেয়ার