মণিরামপুর হাসপাতালে মাস্টাররোলের ১২ কর্মচারীর বর্ধিত বেতন দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর॥ যশোরের মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ১২ কর্মচারীর বর্ধিত বেতন দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। জনপ্রতি বর্ধিত বেতনের ১৫শ’ টাকা নিজের পকেট থেকেই বহন করলেন তিনি। যা রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্ত না হওয়া অবধি চলমান থাকবে বলে জানাগেছে। গত জানুয়ারি মাস থেকে চলতি মাস পর্যন্ত বর্ধিত বেতনের ৫৪ হাজার টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তুলে দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর ও স্বাস্থ্য কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সভার শুরুতেই তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন দেবার প্রতিশ্রুতি। এসময় সভায় উপস্থিত অনেকেই হতবাক হয়ে যান। তিনি ৫৪ হাজার টাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা শুভ্রারানীর হাতে তুলে দেন।
এতদিন মাত্র ২৫শ’ টাকা বেতনে মানবেতর জীবন-যাপন করে আসছিলেন মাস্টাররোলে কর্মরত ১২ কর্মচারী। এখন থেকে প্রতিমাসে তারা ৪ হাজার টাকা বেতন পাবেন তারা। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের আগে হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এমপি থাকাকালিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সভায় যোগ দিয়ে জানতে পারেন মাস্টাররোলে কর্মরত এই ১২ কর্মচারী মাত্র ২৫শ’ টাকা বেতন পান। মাত্র ২৫’শ টাকায় সংসার চালানো কষ্টকর বিধায় তাদেরকে রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্তকরণে সব ধরনের সহযোগিতার পাশাপাশি বছরের শুরতে (জানুয়ারি মাস) থেকে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত ১৫শ’ টাকা দিবেন বলে ঘোষণা দেন। নির্বাচনের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ওই তাদের কথা ভোলেননি। মাস্টাররোলে কর্মরত আশীষ কুমার ঘোষ বলেন, স্যার তাদের কথা ভুলে যাননি-একথা ভাবতেই আনন্দে চোখে অশ্রু এসে গেছে।
জেলা সিভির সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী স্যারের এমন উদ্যোগে হাসপাতালে কর্মরত সকলকেই অনুপ্রাণিত করবে।’
অপরদিকে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে হাসপাতালে রোগীবহনের এ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় অকেজো হয়ে ছিলো। এতে করে জটিল রোগী স্থানান্তরে স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। নতুন এ্যাম্বুলেন্স আসার খবরে অনেকেই উচ্ছ্বসিত অনুভূতি প্রকাশ করেন।

শেয়ার