খোশ আমদেদ মাহে রমজান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ রহমত, বরকত, মাগফিরাতের বার্তাবাহী মাহে রমজানের আজ চতুর্থ দিবস। রোজা ইসলামের অন্যতম প্রধান রুকন, ফরজ ইবাদত। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র মাহে রমজানে মুসলমানদের ওপর সিয়াম সাধনা ফরজ করেছেন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা আমাদেরকে একজন সংযত ও আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে এবং একই সঙ্গে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের প্রিয়ভাজন হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। ‘রমজান’ শব্দটি আরবি ‘রমজ’ শব্দ হতে নির্গত। এর অর্থ দহন প্রক্রিয়া। আর সাউম বা সিয়াম মানে বিরত থাকা, সংযত হওয়া ইত্যাদি। ইসলামী শরিয়তে সুবহি সাদিক হতে সূর্যাস্ত (লাইল) পর্যন্ত আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির নিয়তে যাবতীয় পানাহার ও কামনা-বাসনা হতে মুক্ত থাকার নাম সাওম বা রোজা। পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার দহন প্রক্রিয়ার ফলে মানুষের মন ও দেহে লুক্কায়িত আমিত্ব, পশুত্বের যে সব খারাপ গুণাবলি বাসা বেঁধে থাকে তা বিদূরিত হয়।
সিয়াম ও কিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা একে একে অতিক্রম করে চলেছি বরকতময় মাসের রহমতের সুসংবাদবাহী ১ম দশক। প্রিয় উম্মতগণকে আমল ইবাদত রিয়াজত বন্দেগীতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এ মাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করে প্রদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, আউয়ালুহু রাহমাহ ওয়া আউসাতুহু মাগফিরাহ …. এর প্রথম অংশ আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির, মধ্যম অংশ ক্ষমা ও মার্জনার আর শেষ অংশ জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার।’ যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে একটি নফল কাজ করবে, সে অন্য মাসের ফরজ আদায়কারীর সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করবে সে অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায়কারীর সমতুল্য। আমরা যেন ইখলাসের সঙ্গে রহমতের এই প্রথম দশক উত্তীর্ণ হয়ে দ্বিতীয় দশকে প্রবেশ করতে পারি।
কুরআন শরীফের বিভিন্ন আয়াত ও বিভিন্ন হাদীসের মর্ম থেকে জানা যায়, পাপী তাপীরা যেন কখনও আল্লাহ তায়ালার অপার রহমত প্রাপ্তি থেকে নিরাশ না হয়। মহান আল্লাহ কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন: লা তাখনাতু মির রাহমাতিল্লাহ…… তোমরা আল্লাহ তায়ালার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।’
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, আমার বান্দা যদি আমাকে পাওয়ার জন্য এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তাকে সাহায্য করার জন্য আমার কুদরতের হাতে দু’হাত অগ্রসর হই। মহান আল্লাহ মাহে রমজানের শুরু থেকে আমাদের জন্য রহমতের শামিয়ানা টাঙিয়েছিলেন। ভক্তির সঙ্গে সাহরি গ্রহণ করে, পাঞ্জেগানা নামায আদায় করে, ইফতার মাহফিল ও তারাবীহর সালাতে শামিল হয়ে তার অবারিত রহমতের প্রত্যাশা করতে হবে। সূরা মু’মিন-এর ৬০নং আয়াতে বলা হয়েছে, তোমাদের প্রতিপালক বলে দিয়েছেন যে, তোমরা আমাকে ডাক; আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা বিনয়কাতর অবস্থায় এবং চুপিচুপি ডাক। (সূরা আ’রাফ ৫৫)। মহানবী (স.) বলেছেন, যখনই কোন দল বসে বসে আল্লাহর যিকির করতে থাকে তখনই ফেরেশতাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখে এবং আল্লাহ পাকের রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে। তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হতে থাকে।’

শেয়ার