সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে
লোক নিয়োগের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুটি মামলা

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আউট সোর্সিং পদে জনবল নিয়োগের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তোভোগিদের পক্ষে সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাদি হয়ে সম্প্রতি এনআই এ্যাক্টের ধারা মোতাবেক এই মামলা দায়ের করেন।
দায়েরকৃত মামলার একমাত্র আসামি জনবল সরবরাহকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘পিমা এ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড’ এর স্বত্ত্বাধিকারি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার ঘোড়াঘাট গ্রামের আবুল হোসেন ব্যাপারির ছেলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল। মামলা নং-১৭৫/১৯। আগামী ৪ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী ধার্যদিন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আউট সোর্সিং জনবল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হন। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগের লক্ষে বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞপ্তি দেখে আগ্রহীরা চাকরির জন্য যোগাযোগ করলে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করেন। একই সাথে আসামি দেলোয়ার হোসেন দুলাল তার কোম্পানির নিজস্ব প্যাডে নিয়োগপত্র প্রদান করেন। এভাবে ৫০ থেকে ৬০জন ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র প্রদান করেও কাজে যোগদান করাননি। এমনকি তাদের কোন বেতন ভাতাও প্রদান করা হয়নি।
এক পর্যায়ে অগ্রিম জামানত বাবদ প্রদত্ত টাকা ফেরত চাইলে এমামলার বাদি শহরের উত্তর কাটিয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের নিকট আসামি দেলোয়ার হোসেন দুলাল আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক লি: এর অনুকুলে এক কোটি ৩ লাখ টাকার একটি নগদের চেক প্রদান করেন। এছাড়াও একই ঘটনায় সংযুক্ত নিয়োগ প্রদানকারি ব্যক্তিদের ৩ মাসের বেতন বাবদ আরও ৭৩ লাখ টাকা প্রাপ্তির দাবিতে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। এর আগে ভুক্তভোগিদের পক্ষে বাদি আশরাফুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ আদালতের আইনজীবি এ্যাড শেখ হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারি দেলোয়ার হোসেন দুলালকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলেও তিনি কোন জবাব দাখিল করেননি। এরপর চেক ডিজ অনার করে ওই মামলা দায়ের করা হয়। আসামিকে আগামী ৪ আগস্ট সাতক্ষীরা আমলী আদালত-১ এ হাজির হওয়ার দিন রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগের জন্য বিগত ২০১৮ সালের ১৩ মে তৎকালিন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপির প্যাডে ১২জনকে চাকরি দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হলেও বিতর্কিত ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দুলাল ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়ে এসব ব্যক্তিদের একটি ভূয়া নিয়োগপত্র প্রদান করেন। যার স্মারক নং ১৫.০০.০০০.০০০১.১৯.০০১.১৮-৭০৫৪ তাং- ছাড়াই প্রদত্ত নিয়োগপত্রটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের তত্তা¡বধায়ক ডা: শেখ শাহাজান আলীর নিকট নিয়ে আসলে তিনি তাদেরকে যোগদান করাননি। এমন নানাভাবে ৪৯ জনের নিকট থেকে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ না দেয়া, প্রতারণার আশ্রয় নেয়ায় ভুক্তভোগিরা মামলাটি করেন।
এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, পিমা এ্যাসোসিয়েটস লি: এর স্বত্ত্বাধিকারি দেলোয়ার হোসেন দুলালের মাধ্যমে চাকরি দেয়ার নাম করে মেডিকেল হাসপাতাল ও কলেজের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারি অনেকের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোটিপতি বনে গেছেন। এদের মধ্যে প্রথমেই নাম শোনা যায় প্যাথলজিস্ট শুব্রত দাস, হেলথ এডুকেটর মুরাদ হোসেন, মেডিকেলের হিসাব রক্ষক মোস্তাজুল ইসলাম ও ঠিকাদারের প্রতিনিধি জনৈক বাদশা। এভাবে সাধারন মানুষের নিকট থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করলেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি ভুক্তভোগি দরিদ্র চাকরি প্রত্যাশিদের। অভিযোগ রয়েছে, এখনও যারা চাকরি করছেন তাদের বেতন কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
এদিকে মামলার বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দুলালের ০১৭৭৮৬১০৪৬৪ নাম্বারে যোগাযোগ করে বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তত্ত্বাবধায়ক ডা: শেখ শাহাজান আলী জানান, মামলার ঘটনাটি আমি শুনেছি। জড়িত থাকলে অবশ্যই শাস্তি হোক। তিনি বলেন, আমার হাসপাতালের অনেকেই এই ঘটনায় জড়িত। আমি শুনেছি অনেকেই টাকা নিয়েছে চাকরি দেয়ার কথা বলে।
এদিকে হাসপতালটিতে দুর্নীতি যেন জেঁকে বসেছে। এনিয়ে বিস্তার সংবাদ প্রকাশিত হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে চোখে পড়েনি। এনিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার