বাঘারপাড়ার শিশু নিশানের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে বলে অভিযুক্তের আদালতে জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামের সাড়ে ৪ বছরের শিশু নিশানকে হত্যা করা হয়নি বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন জাহিদ। ছোট শিশুটি নসিমন থেকে নেয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় চলন্ত একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় পড়ে মারা যায় বলে জাহিদ জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রহমান এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। আনোয়ার হোসেন জামদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আহাদ আলীর ছেলে।
আনোয়ার হোসেন জাহিদ জানিয়েছে, তিনি নসিমনে করে ঝাল-মুড়ি বিক্রি করেন। ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির সামনে থেকে ভাতিজা নিশান তার নসিমনে ওঠে। এরপর তাকে নেমে যেতে বলা হলে সে নসিমন থেকে নেমে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় চলন্ত একটি ইজিবাইকে ধাক্কা লেগে রাস্তায় পড়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, শিশু নিশানদের পরিবারের সাথে আসামি আনোয়ার হোসেনদের সাথে পূর্বশত্রুতা ছিল। এ ঘটনার জের ধরে আসামি আনোয়ার তার নছিমনে করে নিশানকে নিয়ে যায়। এরপর পরিকল্পিতভাবে অপর আসামির ইজিবাইকে ধাক্কাদিয়ে তাকে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে।
এব্যাপারে নিহতের মা সাজনা বেগম বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেন। আদালতের আদেশে ওই বছরের ২০ অক্টোবর বাঘারপাড়া থানা হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা এবং পরে মামলাটি সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে ইজিবাইক চালক লিয়াকত আলীকে অভিযুক্ত এবং আনোয়ার হোসেন জাহিদের অব্যাহতির চেয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে মামালার বাদী চার্জশিটের উপর নারাজি আবেদন করলে পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের আদেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক আব্দুল মান্নান গতকাল বুধবার শহরের মণিহার সিনেমা হলের সামনের রাস্তা থেকে আসামি আনোয়ার হোসেনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন।

শেয়ার