টাকা নিয়ে সংযোগ দিতে গড়িমসি কারবালায় ওজোপাডিকোর তিন প্রকৌশলীসহ ৫ কর্মী জনরোষে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পুণঃবিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় যশোর শহরের কারবালা এলাকার গ্রাহকের রোষানলে পড়তে হয়েছে যশোর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)’র তিন প্রকৌশলীসহ ৫ কর্মীকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাদের ছেড়ে দেয় স্থানীয় জনতা। অবশ্য এ জন্য তাদের সংযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের কারবালা মসজিদের পশ্চিম পাশে। বিদ্যুতের ৫ কর্মী হলেন, প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সোহেল রানা, নাসির উদ্দিন, লাইনম্যান জালাল ফকির ও গাড়ির চালক জিয়াউর রহমান। কারবাল এলাকার নজরুল ইসলামের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিদ্যুতের মেইন লাইনে সমস্যার কারণে এলাকার একাধিক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বাড়ি ও দোকান ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য লাইনম্যান জালাল ফকিরকে ২৫শ’ টাকা দেয়া হয়। যাতে দ্রুত কাজ হয়। সংযোগ ঠিক না করে তালবাহান করতে থাকে। একই ভাবে ২০/২২ জনের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে। প্রত্যেকে ৫শ’ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। একে তো রোজার মাস। তার ওপর অসহ্য গরম। বাড়িতে টিকতে না পেরে স্থানীয় লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে চাপ দিলে লাইন দিতে বাধ্য হয়। তবে যারা টাকা দিতে পারিনি তাদের সংযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম। সে কারণে বিদ্যুৎকর্মীদের আটকে রাখা হয়েছিল। ওই এলাকার অপর বাসিন্দা জুয়েলের অভিযোগ এক হাজার টাকা দেয়ার পরও তার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। খোকন নামে অপর গ্রাহকের অভিযোগ ৫শ টাকা দেয়ার পরও চাপ সৃষ্টি করে সংযোগ নিতে হয়েছে তার। একই অভিযোগ গ্রাহক তরিকুল ইসলামের। এলাকার ব্যবসায়ী রোকন ব্যাপারী জানিয়েছেন, এই সুযোগে কারবালা এলাকার ২০/২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে লাইনম্যান জালাল ফকির। তিনি ইঞ্জিনিয়রদের নাম ভাঙ্গিয়ে ওই টাকা আদায় করেন। পরে সংযোগ দিতে না পারায় রোষানলে পড়েন জালাল ফকির।
এ বিষয়ে লাইনম্যান জালাল ফকির সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি লোকজনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ সঠিক না। অনেক গ্রাহক স্বেচ্ছায় টাকা দিয়েছেন কাজের জন্য। যে কাজ তাদের অফিসে যেয়ে করার কথা। সেই কাজ তারা নিজেরা না করে টাকা দেয়। কাজ করতে একটু দেরি হওয়ায় নানা মিথ্যা অভিযোগ করছেন গ্রহকরা।
প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেছেন, ডিসলাইনের কারণে সমস্যা হয়েছে। ওই লাইনের সংযোগ দেয়ার সময় কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটিতে সংযোগের ত্রুটি দেখা দেয়। মোট ১১টা সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। মঙ্গলবার রাতে ৮টি লাইনে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তিন লাইনের সংযোগ বাকি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে গ্রাহকরা। লাইনম্যান জালাল ফকির ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গ্রাহকরা কাজের সুবিধার জন্য স্বেচ্ছায় জালাল ফকিরকে টাকা দিতে পারে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সমির কুমার সরকার জানিয়েছেন, সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।
ওজোপাডিকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি আমার কানে পৌঁছেছে। আমি তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

শেয়ার