যশোরে পয়লা রমজানে বাহারি ইফতারির জমজমাট পসরা

সালমান হাসান রাজিব
পুরোপুরি গরমের ভেতর এলো এবারের রমজান মাস। বৈশাখ মাসের সূর্য্য তাই দিনভর রীতিমতো তাপ ঢালছে। গতকাল মঙ্গলবার পয়লা রমজানের দিন ভীষণ গরমে ছিল হাঁসফাঁস অবস্থা। ফলে যশোর শহরের রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি ছিল খানিকটা কম। তবে দুপুর গড়ালে পাল্টে যেতে শুরু করে শহরের হালচাল। কারণ বিকেলে শহরজুড়ে বসে যায় মৌসুমী ইফতারের পসরা। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত জমপেশ ইফতারের বিকিকিনি চলে। নামকরা হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে রমজানকে কেন্দ্র করে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা খন্ডকালীন ইফতারের দোকানগুলোয় রোজাদাররা রীতিমতো ভিড় জমান। হাঁকডাক ছেড়ে চলে ইফতার বিক্রি।
গতকাল বিকেলে যশোর শহর ঘুরে দেখা যায়, অভিজাত হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোর সামনে সামিয়ানা টাঙিয়ে বাড়তি অংশে সাজানো হয়েছে বাহারি সব ইফতারের পসরা। এসব প্রতিষ্ঠানের ইফতারের আইটেমে ছোলা, পিঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, ফ্লুরির পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন ধরনের কাবাব; যেমন জালি কাবাব, কাঠি কাবাব, শিক কাবাব ও নানা রকমের মাংসের গ্রিল প্রাধান্য ছিল। এদিকে শহরের রাজপথজুড়ে গড়ে তোলা মৌসুমী ইফতারের দোকানেও নানান পদের ইফতার সামগ্রীর কমতি ছিল না। এসব ইফতারের দোকানে আলুর চপ, রসুনের চপ, কলিজার চপ, মাংসের কিমার চপ, ডিমের চপ, মাশরুমের চপের পাশাপাশি ছোলা, পিঁয়াজি, বেগুনি, ফুলুরির মতন ইফতারি বিক্রি হতে দেখা যায়। এমনকি শহরের পাড়া-মহল্লার হোটেলগুলোর পাশাপাশি মৌসুমী ইফতারের দোকানে নানা ধরণের ইফতারি বিক্রির ধুম পড়ে যায়। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে চাকুরিজীবী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, মেস বাড়ির বাসিন্দা ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ হোটেল রেস্তোরাঁ ও মৌসুমী ইফতারের দোকান থেকে ভিড় জমিয়ে ইফতার কেনেন।
এদিন শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা, রেলবাজার, চিত্রা মোড়, চৌরাস্তা, বড়বাজার, চাঁচড়া মোড়, রেলগেট, পালবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রোজাদাররা ইফতারির পাশাপাশি ফলের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরণের গ্রীষ্মকালীন ফল কিনছেন। ইফতারিতে খাবার জন্য এসব ফলের দোকান থেকে আনারস, তরমুজ, বাঙ্গির মতন বিভিন্ন ধরনের রসালো মৌসুমি ফল কেনেন অনেকে। সিভিলকোর্ট মোড়ের একটি ফলের দোকান থেকে বেসরকারি ফার্মে কর্মরত ফিরোজ হক রানা নামে এক ক্রেতা তরমুজ ও আনারস কিনছিলেন। আলাপচারিতায় জানান, প্রচন্ড গরমের ভেতরে রোজা। তাই তরমুজ কিনলাম। কারণ রোজা থাকার পর দিনশেষে রসালো ফল পানি শূন্যতা দূর করে। তার মতো অনেকে এখান থেকে ইফতারির জন্য ফল কিনে বাসায় ফেরেন।
শহরের দড়াটানা এলাকায় নিউ ভৈরব হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, ইফতারির জমজমাট পসরা। ক্রেতারা ভিড় করে সেখান থেকে ইফতার কিনছেন। রমজান উপলক্ষে সেখানে ছোলা, বেগুনি, পিয়াজু, আলুর চপের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কাবাব ও গ্রিল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতা আতাউর রহমান। তিনি বলেন, রমজানের প্রথমদিন দুপুরের পর থেকেই মানুষজন ইফতার কিনতে ভিড় করছেন। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। গতকাল বিকেলে শহরের জিলা স্কুল এলাকার একটি মৌসুমী ইফতারের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের চপ, ছোলা, বেগুনি কিনছিলেন স্কুল শিক্ষক আজিজুল হক। আলাপচারিতায় বলেন, রোজার দিনে বাড়িতে ইফতার বানানো হয়। তবে সব ধরনের আইটেম বাড়িতে বানানো হয়ে ওঠে না। এজন্য বাইরে থেকে কয়েক আইটেমের ইফতারি কিনলাম।

শেয়ার