নড়াইলে ৩৫ ডিলারের মধ্যে টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেছেন মাত্র ৯ জন

নড়াইল প্রতিনিধি॥ পবিত্র রমজান উপলক্ষে নড়াইল জেলায় ৩৫ জন ডিলারের মধ্যে মাত্র ৯ জন টিসিবির পণ্য উত্তোলন করেছেন। এখনও পর্যন্ত কালিয়া উপজেলার কোনো ডিলার পণ্য উত্তোলন করেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু ভোজ্য পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ২৩ এপ্রিল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলায় বর্তমানে ৩৫ জন টিসিবি ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ জন, লোহাগড়া উপজেলায় ১৪ জন এবং কালিয়ায় রয়েছে ৬জন। এসব ডিলারদের মধ্যে সদরে ৩জন এবং লোহাগড়া উপজেলায় ৬জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন। এবার কেজি প্রতি টিসিবির সয়াবিন তেলের মূল্য ৮৫ টাকা, ছোলার মূল্য ৬০ টাকা, চিনির মূল্য ৪৭ টাকা, মুশুর ডালের মূল্য ৪৪ টাকা ও খেজুর ১৩৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে খেজুরের চালান এখনও আসেনি। জানা গেছে, প্রতি বরাদ্দে এক জন ডিলার ১ হাজার লিটার সয়াবিন তেল, ১ হাজার কেজি চিনি, ৫০০ কেজি ছোলা এবং ৪শ’ কেজি মুশুর ডাল উত্তোলন করতে পারবেন।
ক্রেতারা জানান, ডিলাররা টিসিবি পণ্য উত্তোলন না করায় ন্যায্য মূল্যে রমজানের প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে পারছেন না। কালিয়া উপজেলার ভ্যান চালক আলতাব আহম্মেদ জানান, কালিয়াতে কোথাও টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। টিসিবির পণ্য বিক্রির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন
লোহাগড়া উপজেলার আলিম বলেন, উপজেলার কয়েকটি স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারের তুলনার এখানে পণ্যের দাম কম হওয়ার তার মত অনেকে এখান থেকে পণ্য ক্রয় করছেন। সদরের ভওয়াখালী গ্রামের তাসলিমা খাতুন বলেন, নড়াইলে ২/১ স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হলেও বিভিন্ন এলাকার মানুষ কম দামে এই পণ্য পাচ্ছেন না। তার দাবি বেশি করে ডিলার নিয়োগ দিয়ে জনগনের হাতের নাগালে পণ্য পৌঁছে দেয়া হোক।
মেসার্স শেখ প্রান্তর এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত¦াধিকারি টিসিবির ডিলার শেখ শামসুজ্জামান খোকন বলেন, রমজান উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে গত ২৫ এপ্রিল থেকে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু করেছি। খেজুর ছাড়া টিসিবির বাকি পণ্য খুচরা বাজার থেকে মূল্য কম থাকায় এবার টিসিবি পণ্যের চাহিদা থাকবে। তবে ডিলাররা পণ্য তুলছেন না কেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিসিবর পণ্যে লাভ কম এবং আনুসঙ্গিক খরচ বেশী। যারা স্থায়ী মুদি ব্যবসায়ী, তাদের পক্ষে টিসিবি পণ্য আনা এবং বিক্রি করা সহজ। আর সারাবছর অন্য কোনো ব্যবসা না করে শুধু ঈদের পূর্বে দুই বার টিসিবি পণ্য এনে খুব একটা লাভ হয় না। ফলে টিসিবির ডিলাররা পণ্য তুলতে চান না।
নড়াইল জেলা মার্কেটিং অফিসার শরিফুল ইসলামের কাছে কতজন ডিলার টিসিবি পণ্য তুলেছেন এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সঠিক তথ্য নেই।
টিসিবির খুলনা বিভাগীয় প্রধান রবিউল মোর্শেদ বলেন, গত বছর নড়াইল জেলায় মোট ৪০জন ডিলার ছিল। এর মধ্যে গত বছর পণ্য উত্তালন না করাসহ বিভিন্ন কারনে ৫জনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বর্তমানে ৩৫ জন ডিলার রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৯জন ডিলার টিসিবি পণ্য উত্তোলন করেছেন।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, খুব শিগ্রই টিসিবি ডিলারদের নিয়ে মিটিং হবে। মিটিংয়ে ডিলারদের পণ্য উত্তোলনের জন্য বলা হবে। যদি কোনো ডিলার পণ্য উত্তোলন না করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার