নড়াইলে দুই মাসে ৫ জনকে হত্যা ॥ যৌতুকের বলি ২ গৃহবধূ

নড়াইল প্রতিনিধি॥ নড়াইলে হটাৎ করে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত দু’মাসে পৃথক ঘটনায় ৫ জনকে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। প্রাণ দিতে হয়েছে দু’জন গৃহবধুকে। এ সকল ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে এবং অন্তত ২০টি বাড়ি-দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। অনেকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের সারোল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মরফুদ শেখের ছেলে লিপু শেখ (৪০) প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
২৭ এপ্রিল লোহাগড়ায় উপজেলার নোয়াগ্রামে কুয়েত আলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক প্রবাসী সৈয়দ মিজানুর রহমানকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় ১জন আহত হয়। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান রুনুর পক্ষে কাজ করায় পরাজিত প্রার্থী ফয়জুল আমির লিটুর সমর্থকরা তাকে হত্যা করে।
২৫ এপ্রিল রাতে সদরের বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের শালিখা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার এবং উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাহাবুবুল আলম বিদ্যুতের লোকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ডাবলু শেখ (৫০) কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পর একটি বাড়ি ভাংচুর ও কয়েকটি বাড়ি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
২৯ মার্চ উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ায় সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশি গ্রামের গোলাম সিকদার (৫৫) আনারস প্রতিকের সমর্থকদের হাতে খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের পুত্র অসিম সিকদার, জালাল সরদার ও তবিবর আহত হন।
১৭ মার্চ সদর থানা পুলিশ নড়াইল-গোবরা সড়কের কাড়ালবিল এলাকা থেকে শিশু ভ্যানচালক কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেনের (১২) লাশ উদ্ধার করে। সাব্বিরের মা আন্না বেগমের ধারণা সাব্বিরকে হত্যা করে তার ব্যাটারি চালিত ভ্যানটি দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নেয়।
৩০ এপ্রিল কালিয়ার সালামাবাদ ইউনিয়নের হাড়িডাঙ্গা গ্রামে অন্তঃস¦ত্ত্বা গৃহবধু সিমলা বেগমকে (১৯) শ^াসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সিমলা বাগেরহাট জেলার মোংলার বুড়িডাঙ্গা গ্রামের আজিজুুল হাওলাদারের মেয়ে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সিমলার স্বামী তাওহিদকে ব্যবসার জন্য ১ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে ।
১৬ মার্চ সদরের তুলারামপুর ইউনিয়নের চামরুল গ্রামে দু’সন্তানের জননী জলি খানমকে (২০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠে। নিহতের পরিবার জানায়, দেবরকে মোটরসাইকেল ও ফ্রিজ না দেয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে।
গত ১ মে রাত ১২ টার দিকে সদরের সিঙ্গাশোলপুর বাজারে আ’লীগের অফিসে রাখা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি, অফিসের চেয়ার-টেবিল এবং তিনটি দোকান ভাংচুর হয়। পুলিশসহ স্থানীয়রা জানায়, বর্তমান চেয়ারম্যান উজ্জল শেখের লোকজন এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
সদরের বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামে বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও প্রতিপক্ষ রিয়াজ মোল্যার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২৯ মার্চ ও ৭ এপ্রিল দুটি সংঘর্ষে তিন জন আহত হন। পরে রিয়াজ মোল্যার পক্ষের ১৫টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে এই গ্রামের অন্তত ২৩টি পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের আমাদা গ্রামে গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাড়িতে ফেরার পথে পূর্ব শত্রতার জের ধরে প্রতিপক্ষ কাশেম খান গ্রুপের লোকজন অপর গ্রুপের নেতা অহিদুর রহমান খানকে (৬৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
গত ১৫ র্মাচ প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সদর উপজেলার বাজার শিঙ্গিয়া গ্রামের সাইদ বিশ্বাসের ছেলে রাবেয়ার গৃহ শিক্ষক রকিবুল ইসলাম মিঠুসহ ৭-৮জন বাজার শিঙ্গিয়া গ্রামের বাসিন্দা রতন বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে তার কন্যা ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবেয়া (১১), তার দাদী জাহানারা বেগম (৫০) ও পাশের বাড়ির শিশু হেনাকে (৮) কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় রাবেয়ার বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে নড়াইল পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির কথা অস্বীকার করে বলেন, নড়াইল অঞ্চল দাঙ্গাপুর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সামান্য ঘটনা নিয়ে এ এলাকার মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমরা আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো রাখার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেক গ্রামে বিবাদমান দু’পক্ষকে নিয়ে বসে মিমাংসা করে দিচ্ছি। আমরা অশাবাদি।

শেয়ার