যশোর বোর্ডের লজ্জা শার্শার সাড়াতলা বালিকা বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে শার্শা উপজেলার সাড়াতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে কেউ পাস করেনি। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সমালোচনা মুখে পড়েছে। শিক্ষকদের কর্তব্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেউ কেউ।
এসএসসির ফলাফল প্রকাশের দিন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তোড়জোড় বেড়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অন্যরা ফলাফল জানতে উদগ্রীব থাকেন। কিন্তু সোমবার ফলাফল প্রকাশের দিন ভিন্ন চিত্র ছিল সাড়াতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। এ বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহীনুর রহমান বিকাল ৫টা পর্যন্ত রেজাল্টের খবর জানেন না। সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে সভাপতির কাছে ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো খোঁজ নিতে পারিনি। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো। কতজন পরীক্ষা দিয়েছে, জানতে চাইলে; সভাপতি বলেন তিনজন। কিন্তু অবাক ব্যাপার পরীক্ষা দিয়েছে একজন।
এরপর ফোনে যোগাযোগ করা হয় প্রধান শিক্ষিকার সাথে। তিনি বলেন, একজন পরীক্ষা দিয়েছিল। সে পাস করেছে। কিন্তু বোর্ডের তালিকায় পাস না করার প্রসঙ্গ তুললে প্রধান শিক্ষিকা চুপ করে যান। বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি’। কিছুপরে ফোন দিলে প্রধান শিক্ষিকা কেউ পাস করেনি বলে স্বীকার করেন।
ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। মেয়েরা স্কুলে আসতে চাই না।’
শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, যশোরের শার্শা উপজেলা সদর থেকে উত্তরে ১৪ কিলোমিটার গেলে সাড়াতলা বাজার। এ বাজারের অদূরে ২০০১ সালে গড়ে উঠে সাড়াতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। বর্তমান সেখানে ৯ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির এলোমোলেভাবে পরিচালিত হয়। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগেও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বোর্ড থেকে পাঠদান অনুমোদন, এমপিও আবেদনসহ নানা খাতে ছিল উদাসীনতা। এজন্য অনেকে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান জানান, শুরু থেকে বিদ্যালয়টি নানা অসুবিধা মোকাবিলা করে আসছে। প্রথম দিকে যারা প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাদের অনেকে এখন নেই। এক পর্যায়ে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মাসুদ মজুমদারের বোন উম্মে সালমা রনিকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ফলাফল আশাব্যাঞ্জক হচ্ছে না।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র মতে, এবার বোর্ডের ২ হাজার ৫১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করতে পারেনি। বোর্ডের সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হলো সাড়াতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এরপর থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন স্থানে সমালোচনার ঝড় বইছে। বেনাপোলের বকুল মাহবুব নামে এক সাংবাদিক ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসের মন্তব্যে লিখেছেন, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর দাও, মিষ্টি পাঠাবো। হারুণ আলমগীর লিখেছেন, এই যুগে এটা বিশ্বাস করা যায় না। যদি হয় তাহলে তাদের পুরস্কার দেওয়া উচিৎ।

শেয়ার