এসএসসি : দু’বছর পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে যশোর বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ এসএসসি পরীক্ষায় গত দু’বছরে পাসের হার কমলেও এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে যশোর বোর্ড। বেড়েছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি। এবছর যশোর বোর্ডে পাশের হার ৯০ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৪৮জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৩৯৫। ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ০৪ শতাংশ, আর ২০১৬ সালে ছিল ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরপর দু’বছর ফলাফল নি¤œমুখী হলেও এবার ফলাফলে ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা গেছে। সোমবার দুপুরে প্রকাশিত ফলাফলে যশোর বোর্ডের এই চিত্র উঠে এসেছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এবছর যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৮ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯৪৮ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তি বেড়েছে ৫৫৩।
গত বছর যশোর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৯ জন। পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৬৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৩৯৫ জন।
আর ২০১৭ সালে এ বোর্ড থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন। পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ০৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৪৬০ জন।
তবে রেকর্ড পরিমাণ পাসের হার ছিল ২০১৬ সালে। ওই বছর ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৮৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৪৪৪। ২০১৬ সালের পর আবার পাসের হার ৯০ এর কোটা অতিক্রম করলো।
যদিও ২০১৫ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার বেশ কমে গিয়েছিল। ওই বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৯০৮ জন। পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫১ ভাগ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী।
এর আগে ২০১৪ সালে এ বোর্ড থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ২২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ২৬ ভাগ। ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী।
আর ২০১৩ সালে যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৬১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৬৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ১০১ জন শিক্ষার্থী। স্মরণকালের মধ্যে ২০১৩ সালেই যশোর বোর্ড শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জন করেছিল। তবে জিপিএ-৫ সবচেয়ে বেশি পেয়েছিল ২০১৪ সালে।
সূত্র মতে, প্রতিবছরের মত এবারও যশোর বোর্ডে অন্য বিভাগের তুলনায় তাক লাগানো ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগ থেকে ৪২ হাজার ৬১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৪১ হাজার ২৬০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ১৯৭ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ছেলেরা। সর্বোচ্চ এ ফল অজর্নকারীদের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮৬ জন ছাত্র ও ৪ হাজার ৪১১ জন ছাত্রী। এ বিভাগে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮২ ভাগ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩৩ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩১ হাজার ১৫৫ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৪৫ ভাগ। এ বিভাগ থেকে এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩৩ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ১১৩ ও ছাত্রী ২২০।
এছাড়া মানবিক বিভাগ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৫৫ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৯৩ হাজার ২৭৩ জন। পাসের হার ৮৭ দশমিক ৭০ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৮ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ৬৪ ও ছাত্রী ৩৫৪ জন।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানিয়েছেন, এবছর যশোর বোর্ডের ফলাফল সন্তোষজনক। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি বেড়েছে। তবে গণিতের প্রশ্নপত্র একটু কঠিন হয়েছে। তা না হলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি আরও বাড়তো। ভাল ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এবছর স্কুলগুলো থেকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের ফরমপূরণের সুযোগ দেয়া হয়নি। বোর্ড এ বিষয়ে কঠোর ছিল। ফলে যোগ্যরাই এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং উত্তীর্ণ হয়েছে। আর প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতি গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার হয়েছে। এতে বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নভীতি কমেছে।

শেয়ার