ফসল ছাড়া যশোরে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ তান্ডব চলানোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও যশোরে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ কমমাত্রায় আঘাত হানায় তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মাঠে থাকা কৃষকের পাকা ধানের আংশিক ক্ষতি হলেও মানুষজন সুরক্ষিত রয়েছে। জেলায় আটটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে কারও আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিসের মতে, শনিবার ভোর ৬টার দিকে ফণী ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বেগে যশোর অঞ্চলে প্রবেশ করে। এর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। বেলা ১১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি যশোর অতিক্রম করার সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬ থেকে ৩০ কিলোমিটার।
যশোর জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা জেলা ত্রাণ ও পুর্নাবসন কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, আগে থেকেই মানুষ সতর্ক থাকায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় আট হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। আর এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হয়েছে। তাতে দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার এবং ত্রাণ তৎপরতার প্রস্তুতির বিষয়েও বিস্তা¬¬রিত জানানো হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সার্বিক প্রস্তুতি ও উদ্ধার তৎপরতার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। গঠন করা হয় ১৩৪টি মেডিকেল টিম। প্রত্যেক উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছিলো। প্রস্তুত ছিলো রেডক্রিসেন্টের ১৫০ জন সদস্য ও গার্লস গাইডের সদস্যরা। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ সঞ্চালন লাইন বন্ধ রাখা ও পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করে দ্রুত চালু করা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যাতে ভবদহ ও কপোতাক্ষ নদে লোনা পানি প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। পাকা স্কুল কলেজ মাদ্রাসা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা প্রদান এবং তীব্রমাত্রার ঘূর্ণিঝড় হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহ কর্তৃপক্ষের নিদের্শক্রমে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শেয়ার