ফণী’র প্রভাবে তালা উপজেলায় ভেঙ্গেছে ৭ শতাধিক বাড়ি ঘর

পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৭ শতাধিক কাচা বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে। সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে উপড়ে পড়েছে গাছপালা। বেশি ক্ষতি হয়েছে আম ও উঠতি বোরো ধানের। তবে জীবন হানি ও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার ভোররাতে আঘাত হানে ফণী। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় শনিবার বিকেল থেকে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন মানুষ। শনিবার সকালে তালা উপজেলার খলিষখালী, কুমিরা, ইসলামকাটি, তালাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের কিছু লোকজন নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। আবহাওয়া উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সরুলিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের অশোক ঘোষ জানান, ঝড়ের ভয়ে আতংকিত ছিলাম। কিন্তু তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমরা রক্ষা পেয়েছি।
তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, শনিবার ভোররাতে আঘাত আনে ফণী। উপজেলায় প্রায় ৭ শতাধিক কাচা ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সার্বক্ষনিক তদারকি করেছেন। সকলকে নিয়ে সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তালা উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় ৭৫০টি বসত ঘর ভেঙ্গে গেছে। জেলা অফিস থেকে শনিবার বিকেল ১০ মেট্রিক টন চাল ও ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সবই ১২টি ইউনিয়নে বন্টন করে দেয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিন জানান, ঘূর্ণি ঝড় ফণীর প্রভাব কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। উপজেলায় মানুষের কাঁচা ঘর-বাড়ি ও গাছগাছালি উপড়ে যাওয়া ছাড়া তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

শেয়ার