পাইকগাছার দেলুটি ও গড়ইখালী ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন

মো. আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা (খুলনা)॥ ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে পাইকগাছার দেলুটির কালিনগর ও গড়ইখালীর শান্তার ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধায়নে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে যেকোন মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ধসে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবো কর্তৃপক্ষ। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, ইউনিয়নের কালিনগর এলাকার ওয়াপদার বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের প্রবল ¯্রােতে ভদ্রা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণে কালিনগর এলাকার ১৫শ’ ফুট বেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুক্রবার সকাল থেকে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি মেরামতের কাজ অব্যাহত রেখেছি। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামতটি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, বাঁধ সংস্কার কাজ টেকসই করার জন্য জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের জরুরী সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ফণী’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি যেকোন মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আর এটা হলে ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারের ৫টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তরমুজ চাষীরা। ফসলের ক্ষেতে কোটি কোটি টাকার তরমুজ রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ফসল ব্যাপক ক্ষতিগস্ত হবে।
গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, ফণী’র প্রভাবে শিবসা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে ইউনিয়নের শান্তা এলাকার বেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধটি ধসে গেলে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না, ওসি এমদাদুল হক শেখ, পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম। ইউএনও জুলিয়া সুকায়না জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সার্বিক মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া ৪০ দিনের কর্মসূচির জনবল দিয়ে এবং পাউবো কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেয়ার