নড়াইলে নাবালকের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের

নড়াইল প্রতিনিধি॥ নড়াইলের নড়াগাতি থানার দেবদুন গ্রামে ১একর ২৫ শতাংশ জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে নড়াগাতি আমলী আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জাল দলিলের বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কালিয়া সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার দেবদুন গ্রামের এনামুল হক মোল্যা ১৯৯০ সালের ৯ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি নাহিদুল হক মোল্লাসহ (৩২) তিন ছেলে এবং এক কন্যাকে নাবালক রেখে যান। এনামুল হক মারা যাবার পর তার নাবালক সন্তানদের ফাঁকি দিয়ে এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত মেজবাউল হক মোল্যা, আইনুল হক মোল্যা, তানজিদুল হক মোল্যা এবং রাশেদুল হক মোল্যা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর পিতা এনামুল হক ও তার নাবালক সন্তানদের নাম বাদ দিয়ে নিজেদের নামে চার দাগে ১একর ২৫ শতক জমির আরএস পরচা রেকর্ড প্রস্তুত করেন। জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত ডুমুরিয়া-দেবদুন মৌজায় জমির পরিমাণ হচ্ছে-১৮৬১ দাগে ১১শতক জমি, ১৮৫৬ দাগে ১৪শতক জমি, ১৮৬৬ দাগে ২০ শতক জমি এবং ১৮৭২ দাগে ৮০ শতক জমি। ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ৩১ধারায় রেকর্ডের সময় ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে ৩৯৬ নম্বরের জাল দলিল প্রদর্শন করে আসামিরা নিজ নিজ নামে জমি রেকর্ড করে নেন। বাদি ৩৯৬/৫ নম্বর দলিলের সহি মোহরী কপি তুলে দেখেন ওই দলিলের দাতা মাধবপাশা গ্রামের গোপাল রায়। ওই দলিলে উল্লেখ রয়েছে সাবেক দাগ ১৬৬৩, হাল ৩০১৪ দাগে জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ।
মামলার বাদি আরো জানান, তার পিতা, দাদা, দাদী কখনো আসামিদের নামে জমি হস্তান্তর করেননি। আসামিরা আমাদের নাবালকত্বের সুযোগ নিয়ে জাল দলিল প্রস্তুত করে দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত অবৈধভাবে জমি ও জমিতে অবস্থিত বিভিন্ন প্রকার গাছ ভোগ দখল করে আসছে। আমরা আমাদের পৈত্রিক জমি বুঝে নিতে চাইলে তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। পরবর্তীতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে চলতি বছরের ১০মার্চ নড়াগাতি থানায় একটি জিডি দায়ের করেন নাহিদুল। জিডি নং-৩৭৩।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মেজবাউল হক মোল্যা বলেন, আমাদের মান সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য প্রতিপক্ষরা মনগড়া ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ধরেছে।

শেয়ার