ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কে বাগেরহাটবাসী

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে গতকাল মানুষের মধ্যে ছিল দিনভর আতঙ্ক। শুক্রবার বিকাল ৩টার পর থেকে থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়া ও কিছু কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়া ও মেঘের গর্জনের কারণে দোকান-পাট ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাগেরহাট শহর জনশূন্য হয়ে পড়ে। বাগেরহাট সদরসহ বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহবান জানাননো হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আশক্সকায় জেলার ৯টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলো দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী আতংকে রয়েছে বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষ। উপকূলীয় এলাকার লোকজন ফণী মোকাবেলায় নিজ উদ্যোগে সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পাশাপাশি শুকনা খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করছেন। উপকূলের অনেকেই পরিবারের বৃদ্ধ-শিশু ও গবাদী পশু নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন।
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় জেলার ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার কথা হয়েছে। জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০টি মেডিকেল টিম। জেলার সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক হাজার উদ্ধার কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মজুদ করা হচ্ছে শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ^াস জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক হাজার উদ্ধার কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। মজুদ করা হচ্ছে শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি। তিনি আরো জানান ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় আমাদের যে ধরেনের প্রস্তুতি থাকার কথা তার অধিকাংশ প্রস্তুতিই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া প্রার্থনা করার কথা জানান।

শেয়ার