১১ নৃ-গোষ্ঠী পরিবার পেল জমি স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর শহরতলীর হামিদপুর ময়লাখানা এলাকার প্রবীণ প্রভাস সরদার বংশ পরম্পরা ভূমিহীন। বেজপাড়ার বুনোপাড়ার দিলীপ সরদারের অবস্থাও একই। ভাসমান অবস্থায় তাদের বসবাস। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, শিক্ষায় সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত এবং বর্ণপ্রথার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য, ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার তারা। শুধু ওই দু’জন নয়। বেজপাড়ার বুনোপাড়ার রবিন সরদার ও তার স্ত্রী মালতি সরদার, তরনী সরদার ও তার স্ত্রী শেফালী সরদার দম্পতি, স্বামী হারা অঞ্জলি সরদার, সিতু রাণী সরদার, চম্পা রাণী সরদার শুটকি, মহারাণী সরদার, সীমা সরদার গেবলে, সুখসা রাণী, মমতা রাণীর জীবন গল্পও এমনই। কিন্তু তাদের জীবন পাল্টে দিতে অন্তত এবার চেষ্টা করেছে যশোর প্রশাসন। এই ১১টি পরিবারকে স্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাই করে দিতে ৩৪ শতক জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাহাবাটি মৌজার ৩৪ শতক জমি জেলা প্রশাসন তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। জমির সেই দলিল তাদের হাতে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। জমির দলিল হাতে পেয়ে নিজের চোখকেই যেন তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না। চোখেমুখে আনন্দ অশ্রু নিয়ে তাদেরই একজন মমতা রাণী বলছিলেন, যেখানে দিন আনতে পান্তা ফুরোয় সেখানে আমাদের জমি হবে। আমরা নিজ জমিতে বসবাস করতে পারবো এমনটি কোনদিন ভাবিনি। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের প্রতি কৃতজ্ঞ।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, যশোরে বসবাস করার প্রায় দুইশ’ বছর পর অবহেলিত বঞ্চিত মানুষদের মধ্যে হতদরিদ্র ১১ পরিবার পেয়েছে বাসস্থানের জমি। পুরুষের পর পুরুষ খেটে খাওয়া সংগ্রামী এসব মানুষের হাতে ১১টি দলিলের মাধ্যমে যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার তুলে দেয়া হয় ৩৪ শতক রেজিস্ট্রি করা জমি। একইসাথে ইজিবাইকে বাবার সাথে দিন কাটানো জান্নাতুল মাওয়াকেও স্থায়ী ঠিকানার জন্য দেয়া হয় ৫ শতক জমি। আর সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো মেধাবী ছাত্রী নিপার চিকিৎসার জন্য দুইলাখ টাকা, দুর্ঘটনায় নিহত একব্যক্তির শিশুকন্যার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকার এফডিআর বিতরণ করা হয়।

শেয়ার