মোংলা বন্দরের সকল কার্যক্রমন বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের বৈঠকে নানা সিদ্ধান্ত সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়া শুরু

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর থেকে বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলায় জনসাধারণকে সতর্ক করার পাশপাশি নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার (২ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় এই তথ্য জানানো হয়। সভায় আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি জেলার ৯টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আতংকে রয়েছে বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন উপকুলীয় এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষ। উপকুলীয় এলাকার লোকজন ‘ফণী’ মোকাবেলায় নিজ উদ্যোগে সাইক্লোন শেল্টারসহ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পাশাপাশি শুকনা খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করছেন। উপকুলের অনেকেই পরিবারের বৃদ্ধ-শিশু ও গবাদী পশু নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে এদিন সকাল থেকেই বাগেরহাটের উপকুলের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে রয়েছে। এইকসাথে উপকুল জুড়ে ভ্যাপসা গরমের পাশাপাশি বাড়ছে বাতাসের গতি।
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছেন। জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার কথা জানানো হয়েছে। জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০টি মেডিকেল টিম। জেলার সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার কয়েক হাজার উদ্ধার কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মজুদ করা হচ্ছে শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি।
ঘূর্ণিঝড়ে ফণী’র তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর জেটি ও আউটার এ্যাংকরেজে অবস্থানরত ১৫ জাহাজসহ সব ধরনের পণ্যবাহী লাইটার জাহাজকে বন্দরের পশুর চ্যানেল থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার দূরুল হুদা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা করে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এছাড়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার তালুকদার দু’দিন ধরে মোংলা ও রামপাল উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুতিমূলক সভায় যোগ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকা ঘুরে-ঘুরে সরেজমিনে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে ধেয়ে আসার আগেই সাধারণ মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এর জুনিয়ার এ্যাসিসেন্ট ডিরেক্টর আঃ রহিম আকন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ইতি মধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বাগেরহাট জেলা ১শ’ ও জেলার শরণখোলা উপজেলায় ১৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার জন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, সুন্দরবন বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিরাপদে থাকতে নির্দেশ দেয়ার সাথে সাথে করমজল ও হারবাড়ীয়া পর্যটন কেন্দ্রের পর্যটকদের সরিয়ে আনা হয়েছে।

শেয়ার